Mohon Bhagwat

‘ভারতে ক্ষমতার পালাবদল হবে না’, দুর্গাপুজোর আবহে জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ফ্রান্সের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের

সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ ভোট পাওয়া কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। শুধু আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না। সমাজের মধ্যে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমেই প্রকৃত সমাধান উঠে আসে।”

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৫

সাম্প্রতিক জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের সময় ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে আরএসএসের বার্ষিক বিজয়া দশমীর ভাষণে বিষয়টি উত্থাপন করলেন সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত। ফ্রান্স ও আলবেনিয়ায় চলতে থাকা হিংসা এবং অতীতে বাংলাদেশ ও নেপালের পরিস্থিতির উল্লেখ করে সরসঙ্ঘচালক বলেন, ভারতেও একই ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত বলেন, “পশ্চিমে ঝড় উঠেছে। ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালে কী ঘটেছে, তা দেখুন। ভারতে ক্ষমতার পালাবদল হবে না। ভারতেও এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারত দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সমাজের সম্মিলিত পুরুষার্থ বা কর্মশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।” চলতি বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সরসঙ্ঘচালক মনে করেন, একটি সমস্যা দেখা দেয়। সেটাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে ওঠে। কিন্তু সেই আন্দোলন সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত। সমাধান খুঁজে বের করাই প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এমন কাজকর্মের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো কখনোই উচিত নয়। শালীনতা ও সংযমের সীমারেখা মেনে চলা উচিত বলেও সরসঙ্ঘচালক মনে করেন। সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবতের কথায়, আন্দোলন ও প্রতিবাদ যেন শুধুমাত্র ভোট পাওয়া উদ্দেশ্য হবে এমনটা নয়। আবার জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে এমনটাও নয়। এর পরিবর্তে সমাজে পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এই বিষয়ে সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ ভোট পাওয়া কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। শুধু আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না। সমাজের মধ্যে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমেই প্রকৃত সমাধান উঠে আসে।”

এ দিনের ভাষণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক সমাজে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন শক্তি সক্রিয় রয়েছে বলেও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন শক্তি মানুষের মধ্যে নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করার মনোভাব তৈরি করতে কাজ করছে। অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলাকে তাঁরা উস্কে দিতেই এই কাজ করছে। তাই বিভ্রান্তি ও বিভেদ ছড়ানোর প্রচেষ্টার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে।”

ভারতের ঐক্য বজায় রাখা এবং বৈচিত্র্যকে রক্ষা করার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত। তাঁর কথায়, বিভেদকামী প্রবণতার মাধ্যমে যে বৌদ্ধিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, তা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ভাবেই বিচলিত হওয়া বা প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না। বলেন, “ভারতকে বিশ্বগুরুর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্যকে সর্বদা মনে রেখে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”

সরসঙ্ঘচালক আরও বলেন, “ব্যক্তিগত অহংকার, নিজের ও অন্যের উপাসনাপদ্ধতি সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং বৈচিত্র্যকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখার প্রবণতা আমাদের ত্যাগ করতে হবে। আমাদের সকলকে একসূত্রে বেঁধে রাখা তিনটি বন্ধন— ভারতের প্রতি ভক্তি, পূর্বপুরুষদের প্রতি গর্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অঙ্গীকার— মনেপ্রাণে গ্রহণ করে দেশের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।”


Share