Maoist Operations

দেশ মাওবাদী মুক্ত হলেও একটি জেলায় এখনও রয়েছে ‘উদ্বেগ’, লাল সন্ত্রাস রুখতে চলবে নজরদারি, সংসদে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার

রাজ‍্যে পালাবদলের পরে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা এবং পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা আত্মসমর্পণ করে। দু’জনই জঙ্গি মিসির বেসরার দলের সদস্য ছিল। পুষ্পা পিএলজির সদস্য ছিল। কলকাতা পুলিশের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করছিল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়খণ্ড
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৯

বর্তমানে দেশের কোনও জেলায় মাওবাদী জঙ্গিদের উপদ্রব নেই। তবে এখনও একটি জেলা ‘উদ্বেগজনক’ (ডিস্ট্রিক্ট অব কনসার্ন) হিসেবে রয়ে গিয়েছে। মাওবাদী জঙ্গিরা যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে আসতে না পারে তার জন‍্য নজরদারি চালানো হবে। ঠিক কোন জেলা এখনও ‘উদ্বেগজনক’ তা স্পষ্ট করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সেই জেলা কোন রাজ্যে অবস্থিত তা-ও কেন্দ্রীয় সরকার জানায়নি।

মঙ্গলবার রাতে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে শীর্ষ মাওবাদী জঙ্গি মিসির বেসরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিসির বেসরা পলাতক ছিল। তার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ বা সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত অপরাধীদের তালিকায় ছিল মিসির বেসরা। মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনে পলিটব্যুরো সদস্য ছিল মিসির বেসরা। সে ভাস্কর, সুনির্মল ও সাগর— এই ছদ্মনামগুলিতেও পরিচিত ছিল।

ওই দিন মিসিরের সঙ্গে পাশাপাশি সংগঠনের আরও দুই সক্রিয় জঙ্গি— মেহনত (ওরফে মোচ্ছু) এবং গৌরবকেও নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। মেহনত (ওরফে মোচ্ছু) সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআরপিএফের কোবরা বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি যৌথ দল এই অভিযান চালায়। ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তে অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গত ৩১ মার্চ থেকে ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, তেলেঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্র থেকে মাওবাদী জঙ্গিদের কার্যকলাপ নির্মূল করার সংকল্প নিয়েছে। তার আগেই একাধিক জায়গায় মাওবাদী জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনল ওরফে তুফান ওরফে পাতিরাম মাঝিকে নিকেশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। অনল মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল। অন‍্য দিকে, ২০২৫ সালে ছত্তীসগঢ়ে ২৭৫ জন মাওবাদী জঙ্গি নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তাবাহিনী নিকেশ করা হয়। সেই তালিকায় ছিল, মাওবাদী সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু ওরফে গগন্না, পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র রেড্ডি ওরফে চলপতি, তাঁর স্ত্রী রবি ভেঙ্কট লক্ষ্মী চৈতন্য ওরফে অরুণা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নরসিংহচলম ওরফে সুধাকর, পিএলজিএ-র শীর্ষ কমান্ডার মাধভী হিডমার মতো শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা।

রাজ‍্যে পালাবদলের পরে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা এবং পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা আত্মসমর্পণ করে। দু’জনই জঙ্গি মিসির বেসরার দলের সদস্য ছিল। পুষ্পা পিএলজির সদস্য ছিল। কলকাতা পুলিশের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করছিল।

রাজ‍্যসভার অধিবেশনে লিখিত জবাবে দেশে মাওবাদমুক্ত হওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত‍্যানন্দ রাই। তিনি জানিয়েছেন, দেশে আর কোনও জেলাতেই মাওবাদী জঙ্গিদের উপদ্রব নেই। ২০১৮ সালের এপ্রিলে মাওবাদী উপদ্রুত জেলা ১২৬ থেকে ৯০-এ নেমে আসে। তার পরে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তা ৭০-এ নামে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে এই ধরনের জেলার সংখ্যা ৩৮ হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওই সংখ্যা আটে নেমে আসে। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে মাওবাদী উপদ্রুত জেলা ‘শূন্য’ হয়ে গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩৭টি জেলাকে ‘লিগাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই জেলাগুলির কোনওটিতেই বর্তমানে আর মাওবাদী জঙ্গিদের উপদ্রব নেই। তবে যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে হবে।

এর পরেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিত‍্যানন্দ জানান, একটি জেলাকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। সেখানে মাওবাদীদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক কাঠামোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যাতে ফের আগের মতো না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালিয়ে যাওয়া দরকার বলে মনে করছে কেন্দ্র।

এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ব্রিজ লাল বলেন, “দেশ মাওবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বলেছিলেন, লাল সন্ত্রাস দেশের জন্য বিপজ্জনক। তার পরেও কংগ্রেস সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্যই আজকে দেশবাসী লাল সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছে।”


Share