Supreme Court

ব্যবসায়িক যুক্তি দেখিয়ে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারে হস্তক্ষেপ নয়, মেটা এবং হোয়াটসঅ‍্যাপকে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

শুনানিতে আদালত আরও জানায়, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তা নীতি এতটাই জটিল ভাষায় তৈরি হয় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা কঠিন। ফলে ব্যবহারকারীর সম্মতি সত্যিই কতটা স্বতঃস্ফূর্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৪

প্রযুক্তি বা ব্যবসায়িক যুক্তি দেখিয়ে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারে কোনও ভাবেই হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এক মামলার শুনানিতে হোয়াটসঅ্যাপ ও তার মূল সংস্থা মেটাকে সুপ্রিম কোর্ট এমনই কড়া বার্তা দিয়েছে। বিচারপতিদের স্পষ্ট মন্তব্য, ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে ব্যক্তিগত তথ্যের উপর অনধিকার চর্চা মেনে নেওয়া হবে না।

জানা গিয়েছে, শুনানির সময় শীর্ষ আদালত জানায়, 'ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে এই দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না।' ব্যবহারকারীর সম্মতি ও ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থার কথা তুলে মেটা যে সাফাই দিয়েছে, তাও শীর্ষ আদালত খতিয়ে দেখে। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অপ্ট-আউটের যুক্তি আসলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক মার্জিত কৌশল ছাড়া কিছু নয়।

মামলার পরিধি বাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককেও পক্ষভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি হতে পারে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলছে, যেখানে তারা প্রতিযোগিতা কমিশন অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সিসিআই হোয়াটসঅ্যাপের ‘নিতে হবে, নইলে ছাড়ুন’ ধরনের গোপনীয়তা নীতিকে অযৌক্তিক বলে জরিমানা করেছিল, কারণ এতে ব্যবহারকারীদের কার্যত বিকল্পহীন করে শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়।

শুনানিতে আদালত আরও জানায়, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তা নীতি এতটাই জটিল ভাষায় তৈরি হয় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা কঠিন। ফলে ব্যবহারকারীর সম্মতি সত্যিই কতটা স্বতঃস্ফূর্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বেঞ্চের মতে, এমন ‘চতুরভাবে সাজানো’ শর্তের ভিড়ে প্রকৃত সম্মতির ধারণাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপের ‘টেক ইট অর লিভ ইট’ প্রাইভেসি পলিসি ঘিরে বিতর্কের শুরু হয়। সিসিআই অভিযোগ তোলে, হোয়াটসঅ্যাপ তার প্রভাব খাটিয়ে ব্যবহারকারীদের তথ্য মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করতে বাধ্য করছে। এর জেরে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটাকে ২১৩.১৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল সেই জরিমানা বহাল রাখলে তার বিরুদ্ধেই মেটা সুপ্রিম কোর্টে যায়।

সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি সংস্থার ডেটা ব্যবহারের সীমা এবং নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার-এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন আদালতের নজর। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


Share