Supreme Court

ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার নয়, একটি মামলার শুনানিতে ‘বিধিবদ্ধ অধিকার’ বলে স্পষ্ট উল্লেখ করল সুপ্রিম কোর্ট

বিচারপতি মহাদেবন তাঁর রায়ে জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হলেও তা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে না।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৯

ভোটাদানের অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও মৌলিক অধিকার নয়। এই দুই অধিকার একে অপরের সঙ্গে পৃথক।  শুক্রবার একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই বলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই দুই অধিকারকে ‘বিধিবদ্ধ অধিকার’ বলে উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার রাজস্থানের জেলা দুগ্ধ ইউনিয়নগুলির নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে। বিচারপতি মহাদেবন তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে না। শীর্ষ আদালত আদালত জানায়, ভোটাধিকার মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার। সেখানে একজন ভোটার ভোটদান করতে পারেন। এটা কোনও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না।

অন‍্য দিকে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারও মৌলিক অধিকার নয় বলে পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি অতিরিক্ত অধিকার। যা নির্দিষ্ট যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শর্তসাপেক্ষের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত বসু বনাম দেবী ঘোষাল মামলার রায় উল্লেখ করে জানায়, এই অধিকারগুলি কেবল আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই প্রযোজ্য।

সুপ্রিম কোর্টে এই পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ২০২৩ সালের অনুপ বারানওয়াল বনাম ভারত সরকার মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই রায়ে বিচারপতি অজয় রাস্তোগী মত দিয়েছিলেন যে ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই একে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবেই দেখেছে।

উল্লেখ্য, বিতর্কটি ছিল রাজস্থানের বিভিন্ন জেলা দুগ্ধ ইউনিয়নের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট উপ-আইনগুলিতে বোর্ড অফ ডিরেক্টর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট এই উপ-আইনগুলিকে ক্ষমতার বাইরে বলে ঘোষণা করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে পারে বলে জানায় হাই কোর্ট।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই রায় খারিজ করে জানায়, হাই কোর্ট ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে। যা ভিন্ন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, বিতর্কিত উপ-আইনগুলি শুধুমাত্র প্রার্থীপদ ও পদাধিকার সংক্রান্ত। ভোটাধিকার প্রয়োগের উওপর কোনও প্রভাব ফেলে না।

শীর্ষ আদালত জানায়, রাজস্থান সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ অনুযায়ী উপ-আইনের মাধ্যমে নির্বাচন ও জন প্রতিনিধিত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা বৈধ। পাশাপাশি, হাই কোর্টের রায়ে একটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব পক্ষকে শুনানির সুযোগ না দিয়েই রায় দেওয়া হয়েছিল। যা ন্যায়বিচারের নীতি পরিপন্থী। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেছে। রাজস্থান হাই কোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছে।


Share