Murder Case

অনলাইন জুয়ার নেশা থেকে নৃশংস খুন! দিল্লির অমর কলোনিতে আমলা-কন্যা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পরিচারকের চাঞ্চল্যকর অতীত ফাঁস

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই অনলাইনে গেম খেলার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। শুরুতে অল্প টাকায় খেললেও ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস জুয়ার পর্যায়ে পৌঁছোয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৭

দিল্লির অমর কলোনিতে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত পরিচারককে নিয়ে তদন্তে নয়া তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই অনলাইনে গেম খেলার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। শুরুতে অল্প টাকায় খেললেও ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস জুয়ার পর্যায়ে পৌঁছোয়।

পরিবারের দাবি, পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন ওই তরুণ। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৭৩ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯০ শতাংশ নম্বর পান। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের পর থেকেই তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এক সময় এতটাই আসক্ত হয়ে ওঠেন যে নিজের মার্কশিট পর্যন্ত বন্ধক রাখতে দ্বিধা করেননি। প্রথমে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা জেতায় আরও বেশি অর্থলাভের নেশা বাড়ে। পরে সেই জুয়াতেই পাঁচ লক্ষ টাকা হারিয়ে দেন। এরপর আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নেওয়া শুরু করেন, যা ক্রমে বড় অঙ্কের ঋণে পরিণত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের উদ্যোগে তাঁকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে দিল্লিতে পরিচারকের কাজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাতেও তাঁর আসক্তি কমেনি। দিল্লিতে কর্মস্থলেও তিনি নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য কর্মীদের কাছ থেকে ধার নিতে শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির মালিকের কাছে অভিযোগ পৌঁছয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি রাজস্থানের অলওয়ারে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানেও জুয়ার নেশা কাটেনি, ঘরের জিনিসপত্র বন্ধক রাখা থেকে শুরু করে নিজের নথিপত্র পর্যন্ত বন্ধক রাখতে থাকেন। পাওনাদারদের চাপ বাড়তেই তিনি ফের দিল্লিতে গিয়ে চুরির পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের স্বভাব ছিল অত্যন্ত রাগী এবং গ্রামে তাঁর ভাবমূর্তিও ভাল ছিল না। পারিবারিক পরিবেশও অশান্ত ছিল বাবার মদ্যপানের কারণে বাড়িতে নিয়মিত বিবাদ লেগে থাকত।

দিল্লির দ্বারকার একটি হোটেল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। হোটেলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, তরুণ নিজেকে অলওয়ারের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়া নেন এবং খুব স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। দেড় হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তিনি ঘর নেন। পরে বিকেলে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেফতার করলে ম্যানেজার জানতে পারেন, তিনি খুনের অভিযুক্ত।

উল্লেখ্য, গত বুধবার এক আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে।


Share