Supreme Court

টেট মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আংশিক স্বস্তি রাজ্য ও শিক্ষক সংগঠনগুলির, প্রবীণ শিক্ষকদেরও চাকরি টিকিয়ে রাখতে নয়া ডেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ওই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়ের করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করা হল।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৭:৩৮

দেশজুড়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট পাশ বাধ্যতামূলক করার মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। রিভিউ পিটিশনের শুনানিতে শিক্ষকদের আংশিক স্বস্তি দিয়ে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগস্ট ২০২৮ সালের মধ্যে সমস্ত কর্মরত শিক্ষককে টেট পাশ করতে হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে, কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। সেই রায়ে শিক্ষকদের জন্য দু’বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে না পারলে চাকরি ছাড়তে হবে অথবা বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে। যদিও অবসরের আর পাঁচ বছর বাকি থাকা শিক্ষকদের ওই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ওই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়ের করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করা হল। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের রায়দানকারী বেঞ্চে বিচারপতি মনমোহনের সঙ্গে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তও ছিলেন। এদিনের শুনানিতেও বিচারপতি দত্তর বেঞ্চের দিকেই নজর ছিল সংশ্লিষ্ট মহলের।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের টেট যোগ্যতা নেই। অথচ ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন এবং ২০১০ সালের এনসিটিই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতা করতে টেট পাশ বাধ্যতামূলক।

পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ, রাজ্যে প্রথম টেট পরীক্ষা শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে। ফলে তার আগে নিয়োগ পাওয়া বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করলেও তাঁদের টেট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে এখন সেই প্রবীণ শিক্ষকদেরও ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে টেট পাশ করে চাকরি বজায় রাখতে হবে।


Share