Arms Looted

ট‍্যাক্সি চালকের মতো আচরণ দেখে সন্দেহ! সেকেন্দ্রাবাদের সেনাছাউনি থেকে অস্ত্র লুটের প্রাক্তন সেনাকর্মী গ্রেফতার, হায়দরাবাদ থেকে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র

চারটি একে-203 রাইফেল ও তার পাঁচটি ম্যাগাজিন, একটি ইনসাস ৫.৫৬ মিমি রাইফেল ও তার তিনটি ম্যাগাজিন, ছ’টি ৯ মিমি পিস্তল ও তার ১২টি ম্যাগাজিন, একটি টি ৬.৩৫ বোরের বেসামরিক পিস্তল, প্যাসিভ নাইট-ভিশন বাইনোকুলার, ১৫৬ রাউন্ড ৯ মিমি গুলি, ৭২০ রাউন্ড একে-203-এর গুলি, ৩৬ রাউন্ড ইনসাস রাইফেলের গুলি, যার মধ্যে বল, ট্রেসার ও ব্ল্যাঙ্ক রাউন্ড রয়েছে বলে তেলেঙ্গানার পুলিশ জানিয়েছে।

সেনাছাউনি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:২৪

সেকেন্দ্রাবাদের সেনাছাউনি থেকে লুট হয়ে গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। সেই ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম উপ্পুথোল্লা মল্লেশ। হায়দরাবাদের একটি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া সামরিক অস্ত্র, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

৩১ অগস্ট সকাল ৭টা নাগাদ ২০ মাদ্রাজ রেজিমেন্টের সেনাছাউনিতে ঘটনাটি ঘটে। মোট ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি যায়। এর মধ্যে ছিল চারটি একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল, সাতটি পিস্তল এবং একটি ইনসাস রাইফেল। এ ছাড়াও, চুরি গিয়েছিল প্রায় এক হাজার ৮০০ রাউন্ড গুলি-সহ একজোড়া প্যাসিভ নাইট-ভিশন বাইনোকুলার। ২০ মাদ্রাজ রেজিমেন্টের সহায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ময়াঙ্ক গোবিত্রীকর মলকাজগিরি কমিশনারেটের বোলারাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। গোলাবারুদ রাখার ঘর হাট করে খোলা ও তালাভাঙা অবস্থায় দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন, আগ্নেয়াস্ত্র চুরি গিয়েছে।

বোল্লারুমের ওই সেনাছাউনিতে লুটের ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার উপ্পুথোল্লা মল্লেশ গ্রেফতার করা হয়েছে। উপ্পুথোল্লা মল্লেশ নাগারকুর্নুল জেলার অমরাবাদের জঙ্গম রেড্ডি পল্লির বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১৬ বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ৩০ জুন তাঁকে আগাম অবসর দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আগাম অবসর নিয়ে তাঁর মধ‍্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তা থেকেই তিনি চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে সঠিক উদ্দেশ্য জানতে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুবাদে বোল্লারুম ক্যান্টনমেন্টের বিন্যাস সম্পর্কে মল্লেশের যথেষ্ট ধারণা ছিল। গত ২৭ থেকে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত এলাকাটি রেকি করেন তিনি। এরপর ৩০ অগস্ট মধ‍্যরাতে রেজিমেন্টের কোটা ও ম্যাগাজিন রুমে ঢুকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চম্পট দেন। পুলিশের বক্তব্য, লুটের জন‍্য ক্যান্টনমেন্টের কাছে একটি মন্দিরের রাস্তা ব্যবহার করা হয়েছিল। মল্লেশ তাঁর সাদা ব্রেজা গাড়িতে অস্ত্রগুলি তোলেন। এরপর নাগারকুরনুল জেলার দিকে রওনা দেন। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে দুটি পৃথক রাস্তা ব‍্যবহার করে ঘুরপথে যান। পথে যাত্রী ওঠানো-নামানোর মাধ্যমে নিজেকে ট্যাক্সিচালক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। যাতে তাঁর যাতায়াতের একটি ভুয়ো ব্যাখ্যা তৈরি হয় এবং টোল ক্যামেরার নজরও এড়ানো যায় সেই জন্যই মল্লেশ এই পথ অবলম্বন করেছিল বলে পুলিশ মনে করছে।

তেলঙ্গানার ডিজি সি ভি আনন্দ জানিয়েছেন, মলকাজগিরি পুলিশ জোন, হায়দরাবাদ সিটি পুলিশের টাস্ক ফোর্স, রাজ‍্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সমন্বিত অভিযান চালায়। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, মুছে ফেলা কল রেকর্ড এবং সন্দেহজনক গতিবিধি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা মল্লেশের কাছে পৌঁছোন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হতে অস্বীকার করার পর তাঁর গতিবিধি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। এরপরই তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেফতার করে।

তাঁর কাছ থেকে চারটি একে-203 রাইফেল ও তার পাঁচটি ম্যাগাজিন, একটি ইনসাস ৫.৫৬ মিমি রাইফেল ও তার তিনটি ম্যাগাজিন, ছ’টি ৯ মিমি পিস্তল ও তার ১২টি ম্যাগাজিন, একটি টি ৬.৩৫ বোরের বেসামরিক পিস্তল, প্যাসিভ নাইট-ভিশন বাইনোকুলার, ১৫৬ রাউন্ড ৯ মিমি গুলি, ৭২০ রাউন্ড একে-203-এর গুলি, ৩৬ রাউন্ড ইনসাস রাইফেলের গুলি, যার মধ্যে বল, ট্রেসার ও ব্ল্যাঙ্ক রাউন্ড রয়েছে বলে তেলেঙ্গানার পুলিশ জানিয়েছে।


Share