Murder

জামিনে ছাড়া পেয়েই প্রতিশোধের নৃশংস পরিণতি, ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তের তাণ্ডব, কিশোরী-সহ ছ'জনকে খুন করে উধাও তেলঙ্গানার যুবক

মেয়েকে বাঁচাতে বৃদ্ধা দিদা এগিয়ে এলে তাঁকেও নির্মমভাবে কোপানো হয়। এরপর যুবকটি ওই কিশোরীকে অপহরণ করে গ্রামের এক নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় এবং তাকেও খুন করে দেহ ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেলেঙ্গানা
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৮

তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেল খাটছিল এক যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে জামিনে মুক্তি পেয়েই সে সোজা চলে যায় নির্যাতিতার বাড়িতে। রাত তখন আনুমানিক পৌনে ১১টা। যুবকটি নির্যাতিতার বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লে তার মা দরজা খোলেন। দরজা খোলার সাথে সাথেই যুবকটি ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। মেয়েকে বাঁচাতে বৃদ্ধা দিদা এগিয়ে এলে তাঁকেও নির্মমভাবে কোপানো হয়। এরপর যুবকটি ওই কিশোরীকে অপহরণ করে গ্রামের এক নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় এবং তাকেও খুন করে দেহ ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত সেই যুবক তার পর নিজের বাড়িতে যান। রাত তখন সাড়ে ১১টা। অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে খুন করেন। তার পর বাবাকে ফোন করে বলেন, ‘‘আমি ছ’জনকে খুন করেছি। আমিও এ বার মরব।’’ তার পরই ফোন বন্ধ করে দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ছ’জনকে খুনের পর গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে ধরতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। ​তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিয়ে করা ওই যুবকের চার বছর ও এক বছরের দুটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তিনি শাবাদ এলাকায় থাকতেন। এর আগে, গত মে মাসে এক স্থানীয় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল, তবে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর কাউন্সেলিংয়ের জন্য তাঁকে তিনবার থানায় ডাকা হলেও তিনি আসেননি। ​পরিবারের দাবি, ওই যুবকের মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি মারাত্মক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত জুয়া খেলতেন। জুয়ার নেশায় বাজারে তাঁর প্রচুর টাকা দেনাও হয়ে গিয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, কাউন্সেলিংয়ের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তকে তিন দফায় থানায় তলব করা হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এর সঙ্গেই তিনি মাদক ও জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বাজারে তাঁর বিপুল দেনা তৈরি হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করেন অভিযুক্ত। তার পর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন। এসি এবং ফ্যান চালিয়ে রেখে চলে যান। যাতে কারও সন্দেহ না হয়। শুক্রবার তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই নির্যাতিতার বাড়ি। সেখান থেকে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নির্যাতিতার বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরে একটি নির্জন জায়গা থেকে তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


Share