weather Disaster

ফুঁসছে তিস্তা-মহানন্দা, সিকিমে ভয়াবহ ধস! চোখের সামনে ভেঙে পড়ল পাহাড়, বন্ধ রংপো-রোরথাং রোড

বৃষ্টির কারণে গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজের একাধিক লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর মহানন্দা ব্যারেজের লকগেটও খোলা হচ্ছে।

সিকিমে ভয়াবহ ধস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিকিম
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০১:২৯

উত্তরবঙ্গজুড়ে টানা বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক ও মহানন্দা-সহ প্রায় সব নদী। পাহাড়েও দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত। এরই মধ্যে সিকিমের রংপো-রোরথাং রোডে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চোখের সামনে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে রাস্তার বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ধসের জেরে একটি স্কুটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার মূল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আপাতত কোনও প্রভাব পড়েনি।

বৃষ্টির কারণে গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজের একাধিক লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর মহানন্দা ব্যারেজের লকগেটও খোলা হচ্ছে। তিস্তার নিম্ন অববাহিকায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্য দিকে, দার্জিলিং ও কালিম্পঙে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের মেরামতির কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। দুধিয়া সেতুর অংশ বাদ দিলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী প্রায় সব রাস্তাতেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিস্তাবাজার সংলগ্ন কিছু এলাকায় জল জমলেও বৃষ্টির তীব্রতা কমলেই তা নেমে যাচ্ছে। তবে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় এখনও ধসের কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত।

মঙ্গলবার সকালে রংপো-রোরথাং রোডে কয়েক জনের সামনে আচমকাই পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না মিললেও নিরাপত্তার স্বার্থে ওই রাস্তায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পেও। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণত রংপো-রোরথাং রোড ব্যবহার করা হয়। সেই বিকল্প পথেও ধস নামায় সমস্যা বেড়েছে। যদিও সিকিম প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার শিলিগুড়ির গুলমা এলাকায় রেলের তৈরি একটি সেতুর অংশ ভেঙে পড়ে। গুলমা থেকে তুড়িবাড়ি পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে অবস্থিত ওই সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতেন।


Share