Supreme Court

প্রতিবাদের নামে দিনের পর দিন রাস্তা বা এলাকা দখল করে রাখা যাবে না! আন্দোলনকারীদের কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি নিয়েও বড় পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতির

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিবাদ এবং ব্যবসা— দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তবে প্রতিবাদের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও জায়গা দখল করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৪৪

প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের। কিন্তু সেই অধিকারের আড়ালে দিনের পর দিন কোনও এলাকা দখল করে রাখা যায় না। আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সমস্যায় ফেলা যাবে না। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগের মামলায় এমনই কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিবাদ এবং ব্যবসা— দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তবে প্রতিবাদের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও জায়গা দখল করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘প্রতিবাদ ও ব্যবসা করার অধিকার— দু’টোই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অনির্দিষ্টকালের জন্য একটি জায়গা দখল করে রাখতে পারেন না। অন্য প্রতিবাদীরাও রয়েছেন। কৃষক, ব্যবসায়ী বা আইনজীবীরা কোথায় যাবেন? প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের আছে!’’ গণপ্রতিবাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করার পরামর্শও দেন তিনি। এমন জায়গা বেছে নেওয়া উচিত, যেখানে আন্দোলনের কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না বলে মত প্রধান বিচারপতির।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-ও। দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। কিন্তু লাগাতার আন্দোলনের জেরে উৎসবের মরসুমে ব্যবসায় মার খাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। তাঁদের দাবি, বিক্ষোভের কারণে একাধিক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার শুনানিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি জানান, উৎসবের মরসুমে দিনের পর দিন দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিক্ষোভের জেরে দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিক্ষোভের আয়োজন যাঁরা করছেন, কর্মসূচির দায়িত্বও তাঁদেরই নিতে হবে। শুনানিতে ব্যবসায় বিক্রির ঘাটতি বা আর্থিক ক্ষতির জন্য শুধু প্রতিবাদ কর্মসূচিকে দায়ী করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। এদিকে, মুকুল রোহতগি আগামী দু’মাস কোনও প্রতিবাদ বা ধর্না না করার প্রস্তাব দেন। প্রধান বিচারপতিও আন্দোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়া নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়। সিজেপি প্রথমে ওই এলাকাতেই কর্মসূচি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়। কেন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নের জবাবে তুষার মেহতা জানান, গত ২০ জুলাই এক দিনের জন্য সেখানে আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শর্ত অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান চালিয়ে যান। শুধু তাই নয়, ওই এলাকা কার্যত দখল করে রাখার পাশাপাশি সংসদ অভিমুখে মিছিলও করেছিলেন তাঁরা। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য, সংসদ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। সুপ্রিম কোর্ট অভিযান যেমন করা যায় না, তেমনই সংসদ অভিযানও গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবাদের নামে দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের যাতায়াতের পথ আটকে রাখার বিরুদ্ধে এর আগেও অবস্থান স্পষ্ট করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২১ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগ আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেও শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও যেখানে-সেখানে, যখন খুশি আন্দোলন করা যায় না। দিল্লির ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগের মামলায় ফের সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করল দেশের শীর্ষ আদালত।


Share