IPAC Case

ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে স্থগিতাদেশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবিকে মান্যতা দিয়ে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালান। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩৩

সুপ্রিম কোর্টের জোর ধাক্কা রাজ‍্য সরকারের। ইডির দাবিতে মান‍্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনই তদন্ত করা যাবে না। বৃহস্পতিবার ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এ ছাড়াও, ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

গত ৮ জানুয়ারি সকালে কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে আইপ‍্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালান। কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে যান তাঁরা। দু’টি ক্ষেত্রেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢুকে পড়েন। প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় কয়েকটি ফাইল এবং একটি ল‍্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সেক্টর ফাইভের অফিসেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। সেখানেও কিছু ফাইল নিয়ে গাড়িতে তুলতে দেখা যায় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে।

সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেন, ইডির আধিকারিকেরা দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে চলে গিয়েছে। এসআইআর নিয়ে দলের অভ‍্যন্তরীণ নথি নিয়ে চলে গিয়েছে। তিনি গিয়ে বের করে নিয়ে এসেছেন, তা-ও মমতা সেদিন জানান। তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশলে ‘চুরি’ করে ইডির আধিকারিকেরা নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এর পরেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে একটি মামলা রুজু করে পুলিশ। পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে একটি শেক্সপিয়র সরণি এবং একটি ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ জানান। মোট চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বিনা অনুমতিতে ব‍্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশ, চুরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ করা হয়। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ডিভিআর সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তাঁর পরিবারের লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ইডির দায়ের করা তিনটি মামলায় শুনানি ছিল। তার আগেই ক‍্যাভিয়েট করে রেখেছিল রাজ্য সরকার। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যে চারটি এফআইআর ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে আপাতত কোনও তদন্ত করা যাবে না। কাউকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা যাবে না। যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়াও, ঘটনাস্থল বাদ দিয়ে আশেপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী দু’সপ্তাহের মধ‍্যে সব পক্ষকে রিপোর্ট দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে।


Share