Supreme Court

দিল্লির রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, বন্ধ করা যাবে না ইন্টারনেট, স্বাভাবিক রাখতে হবে রেল-মেট্রো পরিষেবাও

কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘প্রয়োজন না থাকারিকেড সরাতে হবে। বন্ধ রাখা যাবে না ইন্টারনেট পরিষেবা। একই সঙ্গে স্বাভাবিক রাখতে হবে রেল ও মেট্রো চলাচল।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:১৮

দিল্লির রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরাতে হবে। বন্ধ রাখা যাবে না ইন্টারনেট পরিষেবা। একই সঙ্গে স্বাভাবিক রাখতে হবে রেল ও মেট্রো চলাচল। দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত মামলায় এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘প্রয়োজন না থাকারিকেড সরাতে হবে। বন্ধ রাখা যাবে না ইন্টারনেট পরিষেবা। একই সঙ্গে স্বাভাবিক রাখতে হবে রেল ও মেট্রো চলাচল। দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত মামলায় এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘প্রয়োজন না থাকলে ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলুন। সাধারণ মানুষকে অবাধে যাতায়াত করতে দিন।’’

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস জারি করেছে। পাশাপাশি, দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি ভাবে আটক এবং নামের পরিচয়পত্র ছাড়া পুলিশকর্মীদের রাস্তায় মোতায়েন থাকার মতো অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হবে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিনই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আদালতে সওয়াল করেন মামলাকারীর আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে পৌঁছোতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি, অনেককে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা এবং বেআইনি ভাবে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে। পাল্টা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বেঞ্চ জানায়, পুলিশের বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ১৯(২) ধারা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার মধ্যে সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। তবে সেই কর্মসূচি আইন মেনেই করতে হবে।

এ দিন সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বেআইনি জমায়েত ঠেকাতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চ। আদালত নির্দেশ দেয়, সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে বা আশপাশে ১৬৩ ধারা জারির নির্দেশ সংক্রান্ত কোনও বোর্ড থাকলে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট-সহ অন্যান্য আদালতে যাতায়াতের পথে যাতে কোনও বাধা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও দিল্লি পুলিশের।

সিজেপি-র ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় জমায়েতের আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে কেন্দ্রীয় সরকার। এর জেরে রেল ও মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শনিবার দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাতিল করা হয় দিল্লিগামী বেশ কয়েকটি ট্রেনও। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, নিরাপত্তার অজুহাতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। শনিবারও আদালত জানায়, মেট্রো ও রেল পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। এবার অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরানো এবং ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়ে নিরাপত্তা ও নাগরিকদের স্বাভাবিক যাতায়াতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিল শীর্ষ আদালত।


Share