AI Impact Summit

‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার হলফনামায় প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'বিশ্বের কাছে এই সম্মেলন হয়ে উঠতে পারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারতের দক্ষতার প্রদর্শন৷ কিন্তু প্রচার–সর্বস্ব এই সরকারের ব্যর্থতায় তা চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে৷

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশার কথা শোনানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যত্রতত্র এআইয়ের ব্যবহার বা তার অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। 

সোমবার রাজধানীর 'ভারত মণ্ডপম'–এ 'এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘গোটা বিশ্ব থেকে মানুষ এই সামিটের জন্য ভারতে আসছেন। এটা আমাদের দেশের যুবসমাজের কাছে বিপুল সম্ভাবনাকে মেলে ধরবে। এতে আবার প্রমাণিত যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের দেশ দ্রুত এগোচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নে৷’

তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে একটি মামলার শুনানি করার সময়ে মামলার পিটিশনে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিভি নাগারত্নর স্পেশাল বেঞ্চ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর কথায়, 'এ বিষয়ে চিন্তা করতে করতে আমরা উদ্বিগ্ন৷ আইনজীবীদের একাংশ এআইয়ের মাধ্যমে পিটিশন তৈরি করছেন৷ এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত৷' পিটিশনে কী ভাবে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে?

বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, 'একটি পিটিশনে মার্সি বনাম ম্যানকাইন্ড মামলার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু এমন কোনও মামলা কোনও দিন হয়নি৷' প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর আদালতে একটি পিটিশনে এমন বহু মামলার উল্লেখ করা হয়েছিল৷' বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর কথায়, ‘এখন পিটিশন তৈরির শিল্পটাই বিপর্যয়ের সম্মুখীন৷’

সোম ও মঙ্গলবার দু'দিনই ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে৷ সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেখানে ঢোকার আগে এসপিজি এবং দিল্লি পুলিশের তরফে গোটা প্যাভিলিয়ন খালি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে৷ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিদেশিদের অনেকেই বিষয়টিকে ভালো ভাবে নেননি৷ আবার, দু'দিনই দীর্ঘ সময় ধরে ভারত মণ্ডপমের ওয়াই–ফাই কাজ করেনি, এমনটা অভিযোগ৷ ফলে, বন্ধ ছিল ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং অনলাইন সিকিউরিটি চেকিং৷ বহু বিদেশি ডেলিগেট সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন, তাঁরা ঠিকঠাক খাবার পাননি। এ সকল অব্যবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার ক্ষমা চান খোদ কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব৷

স্বভাবতই কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধী শিবির৷ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘বিশ্বের কাছে এই সম্মেলন হয়ে উঠতে পারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারতের দক্ষতার প্রদর্শন৷ কিন্তু প্রচার–সর্বস্ব এই সরকারের ব্যর্থতায় তা চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে৷ সম্মেলনের প্রথম দিন ছবি তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে ছুটে গিয়েছেন, ফলে সমস্যায় পড়েছেন অতিথি, ডেলিগেটরা। তাঁদের জিনিসপত্র, ল্যাপটপ চুরি হয়েছে।’

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার সাগরিকা ঘোষ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন— সম্মেলনের প্রথম দিনেই প্রচুর ঝড় বয়ে গিয়েছে, কারণ যাবতীয় মনোযোগ ছিল ফটো-জীবী প্রধানমন্ত্রীর উপর লজ্জাজনক!'


Share