Supreme Court Detention Order

শুধু গ্রেফতার নয়, আটকের ক্ষেত্রেও ২৪ ঘণ্টার নিয়ম বাধ্যতামূলক! সময়সীমা পেরোলেই মুক্তি দিতে হবে অভিযুক্তকে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে অযৌক্তিক ভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হলে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের রিমান্ডের আবেদন খারিজ করতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:১৯

আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি আগে কাউকে আটকে রাখলেও বাদ যাবে না সেই সময়। আটকের মুহূর্ত থেকেই শুরু হবে ২৪ ঘণ্টার হিসেব। নির্দেশ অমান্য হলে পুলিশের রিমান্ডের আবেদনও খারিজ করতে পারবেন ম্যাজিস্ট্রেট।

দেশে কাউকে গ্রেফতার করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারির আগে কোনও ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা নিয়ে এত দিন স্পষ্টতা ছিল না। এ বার সেই বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, শুধু গ্রেফতার নয়, কোনও ব্যক্তিকে আটক করার পরেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও ব্যক্তিকে যে মুহূর্তে আটক করা হবে, ঠিক সেই সময় থেকেই ২৪ ঘণ্টার হিসেব শুরু হবে। অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার দেখানোর সময় থেকে নতুন করে সময় গণনার সুযোগ নেই পুলিশের। সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, ‘গ্রেফতার’ এবং ‘আটক’—এই দুইয়ের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা যাবে না। কাউকে প্রথমে আটক করে পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগের সময়টুকু হিসেবের বাইরে রাখার চেষ্টা অসাংবিধানিক।
শুধু পুলিশকেই নয়, এ বিষয়ে নিম্ন আদালতগুলিকেও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কোনও অভিযুক্তকে রিমান্ডে পাঠানোর সময় তাঁর আটকের প্রকৃত তারিখ এবং সময় নথিভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, আটকের মুহূর্ত থেকে ২৪ ঘণ্টার সাংবিধানিক সময়সীমা মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে ম্যাজিস্ট্রেটকে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে অযৌক্তিক ভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হলে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের রিমান্ডের আবেদন খারিজ করতে পারেন। পুলিশের বেআইনি আটকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনমহল। নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।


Share