Supreme Court

বকেয়া ডিএ-র ৬৫% মিটেছে, দাবি রাজ্যের! এখনও টাকা পাননি বহু কর্মী, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ফের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে রাজ্যের এই দাবির সঙ্গে কর্মীদের একাংশের বক্তব্যের ফারাক রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৫৪

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ)-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জানাল রাজ্য সরকার। যদিও সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, এখনও অনেকেই বকেয়া ডিএ-র টাকা হাতে পাননি। বুধবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চে ডিএ-সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি হয়। রাজ্য সরকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেন। আদালতে তিনি জানান, বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশও মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে রাজ্যের এই দাবির সঙ্গে কর্মীদের একাংশের বক্তব্যের ফারাক রয়েছে। তাঁদের দাবি, এখনও বহু সরকারি কর্মী বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ টাকা পাননি। বিষয়টি নিয়ে বুধবার ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা।

অন্য দিকে, সরকারি কর্মীদের একাংশের হয়ে আইনজীবী করুণা নন্দী ও ফিরদৌস শামিম সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন। তাঁদের দাবি, এখনও বহু সরকারি কর্মী বকেয়া ডিএ-র টাকা পাননি। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের আগের রায়ে সমস্ত বঞ্চিত সরকারি কর্মীকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা বাস্তবে এখনও অনেকেই সেই টাকা পাননি বলে দাবি করেন।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, যে সরকারি কর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের প্রতিনিধিদের নাম আদালতে জমা দিতে হবে। মামলাকারী সরকারি কর্মীদের সেই সংক্রান্ত তথ্যও আদালতের কাছে পেশ করতে বলা হয়েছে। বুধবার ফের মামলাটি শুনানির জন্য উঠবে। ওই শুনানির পর বকেয়া ডিএ না-পাওয়া সরকারি কর্মীদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার মূল রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, রাজ্য সরকারকে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ সম্পূর্ণ মিটিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে ধাপে ধাপে মেটানো যায় এবং তাতে রাজ্য সরকারের উপর যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, তা খতিয়ে দেখতে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়। সম্প্রতি সেই কমিটি তাদের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জমা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ পরিশোধের কাজ কতটা এগিয়েছে, ইতিমধ্যে কত টাকা মেটানো হয়েছে এবং কতটা বকেয়া রয়েছে এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করতে আদালত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, বাকি ডিএ কী ভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় মেটানো হবে, সে বিষয়েও রাজ্যের পরিকল্পনা রিপোর্টে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট কমিটির তৈরি সেই রিপোর্ট মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছিল।

শীর্ষ আদালতের গঠিত মনিটরিং কমিটি ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ পরিশোধের জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কমিটির নির্দেশ, যেসব সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্যের তরফে কমিটিকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৭৫৯ জন সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা মনিটরিং কমিটি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


Share