School Service Commission

২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগে ফের সময়ের আবেদন, ৩১ মে পর্যন্ত বাড়াতে চায় এসএসসি, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তাঁরা সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সচিন সচদেবার এজলাসে কমিশনের এই আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৯

২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আরও সময় চায় রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। এই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বর্ধিত সময়সীমা আগামী সোমবারই শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন জানাল কমিশন। এসএসসি-র দাবি, শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ঘিরে বিষয়ভিত্তিক একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয় বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য এসএসসি আরও আট মাস সময় চেয়েছে। আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তাঁরা সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সচিন সচদেবার এজলাসে কমিশনের এই আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এসএসসি নতুন করে পরীক্ষা নেয়। মোট ৪৪টি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, পরীক্ষার ‘অ্যানসার কি’ প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়ভিত্তিক অভিযোগের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ ২৯ হাজার। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কমিশন একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেছে। এসএসসি-র বক্তব্য, এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ যাচাই করতে যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, পাঁচ লক্ষেরও বেশি ওএমআর শিট স্ক্যান করার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ফলে সেগুলি তিন বার করে স্ক্যান করতে হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। এই সমস্ত কারণ দেখিয়েই এসএসসি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও সময় চেয়েছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। এর পিছনে তারা একাধিক কারণও তুলে ধরেছে। কমিশনের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাঁরা চেয়ারম্যান এবং পাঁচটি জ়োনের দায়িত্বে ছিলেন, ভোটের পর তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবি কমিশনের। এর পাশাপাশি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়েও জটিলতা রয়েছে বলে এসএসসি জানিয়েছে। পূর্বতন সরকারের সংরক্ষণ নীতি মেনে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকারের নীতিগত অবস্থান বদলেছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা জানতে কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে নির্দেশিকা চেয়েছে।

তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে জারি করা ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের পর ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ ওই নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের বক্তব্য, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন বর্তমানে আর কার্যকর নয়। ফলে ওই শংসাপত্রগুলিরও আর বৈধতা নেই। যাঁদের কাছে এই ধরনের শংসাপত্র রয়েছে, তাঁদের ‘সাধারণ শ্রেণি’ বা জেনারেল ক্যাটেগরির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কী ভাবে তা কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। সেই কারণেই নিয়োগ সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে কমিশন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে।

প্রাথমিক ভাবে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট এসএসসিকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কমিশন আরও সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। এসএসসির আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত পরে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার সময়সীমা ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। সেই বর্ধিত সময়সীমাও সোমবার শেষ হচ্ছে। এর মধ্যেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আরও সময় চেয়ে এসএসসি ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাচ্ছে।

গত বছর নেওয়া শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় নবম-দশম স্তরে দু'লক্ষ ৯৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে দু'লক্ষ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। কমিশনের দাবি, একাদশ-দ্বাদশ স্তরের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। মোট ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিংও শেষ হয়েছে। ওই স্তরে তিন হাজার ৫৮৬ জনকে নিয়োগের জন্য এসএসসি পর্ষদের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। অন্য দিকে, নবম-দশম স্তরের নিয়োগের ক্ষেত্রেও ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।


Share