Fake Currency

সোনিপতে ১০ মাস ধরে চলছিল জাল কয়েন তৈরির কারখানা! উদ্ধার ৭০ কোটিরও বেশি ২০ টাকার কয়েন, হরিয়ানা থেকে যন্ত্র সরাতে গিয়ে সাহারানপুরে ধৃত পাঁচ জন

পুলিশের দাবি, দিল্লি পুলিশের হাতে এই চক্রের এক সহযোগী গ্রেফতার হওয়ার পরই ধরা পড়ার আশঙ্কায় কারখানা সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১১:২৪

৭০ কোটিরও বেশি টাকার জাল ২০ টাকার কয়েন তৈরি ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফাঁস হল আন্তঃরাজ্য জাল মুদ্রাপাচার চক্র। হরিয়ানার সোনিপত জেলায় প্রায় ১০ মাস ধরে গোপনে চলছিল এই কারবার। বাইরে থেকে দেখলে মনে হত, সেখানে স্ক্রু-ড্রাইভার তৈরির ব্যবসা চলছে। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই তৈরি হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ জাল ২০ টাকার কয়েন। সম্প্রতি হরিয়ানা থেকে উত্তরপ্রদেশে কয়েন তৈরির যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করে সাহারানপুর পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ছ’টি ভারী যন্ত্র। পুলিশের দাবি, দিল্লি পুলিশের হাতে এই চক্রের এক সহযোগী গ্রেফতার হওয়ার পরই ধরা পড়ার আশঙ্কায় কারখানা সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাহারানপুর পুলিশের কাছে এক সূত্র মারফত খবর আসে, তিন ব্যক্তি প্রায় ৫০০ বর্গফুটের একটি জায়গা খুঁজছেন। সেখানে ছ’টি ভারী যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, ওই জায়গায় কোনও সরঞ্জাম তৈরির কারখানা তৈরি হতে পারে। তবে তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নজরদারি শুরু করে পুলিশ। এরপর উপকর লুথরা ওরফে অভয় প্রতাপ সিংহ ৬২), সাহারানপুরের হিমাংশু ওরফে গুল্লু এবং মুজফ্ফরনগরের কুলদীপকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁদের আরও দুই সঙ্গী কাছাকাছি একটি মোড়ে আলাদা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। পরে বিহারের মধুবনীর বাসিন্দা সন্তোষ চৌরাসিয়া ওরফে জনার্দন এবং উত্তরপ্রদেশের সন্ত রবিদাস নগরের অনুরাগ পাল ওরফে লঙ্কেশকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের গাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় যন্ত্রপাতিগুলি।

তদন্তকারীদের দাবি, সোনিপতে এতদিন ধরে জাল কয়েন তৈরির কারখানা চালাচ্ছিল এই চক্র। পুলিশি অভিযানের আশঙ্কায় সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এই কারবারের মূল মাথা হিসেবে উপকর লুথরাকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, পেশায় একসময় স্বর্ণকার ছিলেন লুথরা। সেই কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই জাল কয়েন তৈরির কৌশল রপ্ত করেন তিনি। ধীরে ধীরে আসল ২০ টাকার কয়েনের সঙ্গে জাল কয়েনের সাদৃশ্য বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তদন্তকারী আধিকারিক তথা থানার ওসি রাজীব কুমার কৌশিকের বক্তব্য, স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করার সময় অর্জিত দক্ষতাই এই কাজে ব্যবহার করতেন লুথরা।

পুলিশের আরও দাবি, তিহাড় জেলে থাকাকালীন হিমাংশুর সঙ্গে পরিচয় হয় লুথরার। সেখান থেকেই দু’জনের ঘনিষ্ঠতা এবং পরে এই চক্র গড়ে ওঠে। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও বিভিন্ন জেলে পরিচয় হয়েছিল তাঁদের। উদ্ধার হওয়া যন্ত্রগুলি তখন বন্ধ অবস্থায় ছিল। ফলে প্রতিদিন কত পরিমাণ জাল কয়েন তৈরি করা হত, সে বিষয়ে অভিযুক্তদের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রায় ১০ মাস ধরে চলা এই কারবারের উৎপাদন ও বণ্টন নেটওয়ার্কের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দিল্লি ও হরিয়ানায় এর আগে সামনে আসা জাল কয়েন সংক্রান্ত মামলাগুলির সঙ্গেও এই চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।


Share