Sonam Wangchuk School Row

জমি নিয়ে আইনি জট, সোনম ওয়াংচুকের স্কুলে তালা ঝোলানোর নির্দেশ! কেন এমন সিদ্ধান্ত লাদাখ প্রশাসনের?

জমি বরাদ্দ নিয়ে আইনি জটিলতার জেরে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুকের স্কুলের সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ লাদাখ প্রশাসনের।

সোনম ওয়াংচুক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০২:২৫

লাদাখে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস (HIAL)-এর অধীনে পরিচালিত লেহ-র ‘ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল’-এর সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে লাদাখ প্রশাসন। জমি সংক্রান্ত মামলায় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে। ফলে আপাতত স্কুলের পঠনপাঠন-সহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে জমি বরাদ্দ নিয়ে আইনি জটিলতা। HIAL-কে বরাদ্দ করা ১,০৭৬ কানাল (১৩৪.৫ একর) এবং এক মারলা (প্রায় ২৭০ বর্গফুট) জমির বরাদ্দ বাতিল করেছে প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে HIAL। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

গত ১ নভেম্বর লেহ-র তহসিলদারের দফতর থেকে HIAL-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও এবং সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, ফিয়াংয়ে অবস্থিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলে প্রয়োজনীয় সম্মতি, ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্লাস ও অন্যান্য কার্যকলাপ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে খবর এসেছে।

নোটিসে গত ২২ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিরও উল্লেখ রয়েছে। ওই চিঠিতে স্কুলের প্রস্তাবিত পরিচালন কমিটির সদস্যদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) চেয়েছিলেন অ্যাংমো। তবে জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় আপাতত স্কুলের কোনও কার্যক্রম চালানো বা নতুন করে কোনও উদ্যোগ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

তহসিলদারের নির্দেশ অনুযায়ী, হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি (Status Quo) বজায় রাখতে হবে। মামলার উপর প্রভাব পড়তে পারে, এমন কোনও পদক্ষেপ না করার জন্যও HIAL-কে সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র উদ্যোগে আয়োজিত পরীক্ষায় অনিয়ম এবং NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনও শুরু করেন তিনি। পরে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর টানা ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেন পরিবেশকর্মী। 


Share