NSA Order Revoked

ছয় মাস পর মুক্তি সোনম ওয়াংচুকের, এনএসএ আটকাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র

গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি যোধপুর জেলে বন্দি ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁকে আটক রাখা হয় এবং ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ছয় মাস কারাবাস কাটিয়েছেন।

সোনাম ওয়াংচুক
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৫:৫৫

অবশেষে মুক্তির মুখ দেখতে চলেছেন লাদাখের জলবায়ু আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে জারি থাকা ডিটেনশন প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্র সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি যোধপুর জেলে বন্দি ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁকে আটক রাখা হয় এবং ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ছয় মাস কারাবাস কাটিয়েছেন। তাঁর আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীনই কেন্দ্র সিদ্ধান্ত বদল করে মুক্তির পথ খুলে দিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, লেহ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ওই সময় এনএসএ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সরকার মনে করেছে, লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে আলোচনার পথই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাদাখের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সমস্ত পক্ষ ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখতে চায় কেন্দ্র। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে জারি থাকা ডিটেনশন বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য হুমকি বলে মনে হলে বিচার ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখা যায়। তবে সরকার চাইলে তার আগেই সেই আটকাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে বৃহৎ আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের জেরে লেহ-এ বিক্ষোভ সহিংস আকার নেয়। সংঘর্ষে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। এর দু’দিন পরই ২৬ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুককে এনএসএ-র আওতায় আটক করা হয়।

কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্য আন্দোলনকে উসকে দিয়েছিল এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এমনকি অভিযোগ ওঠে, তিনি লাদাখকে অস্থিরতার পথে ঠেলে দিতে চাইছেন। যদিও সোনম ওয়াংচুক শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

এদিকে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস করপাস মামলা দায়ের করেন। আবেদনে দাবি করা হয়, এনএসএ-র অধীনে তাঁর আটক অসাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। শুনানির সময় আদালত সোনমের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।

শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল। লাদাখের আন্দোলন, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় বলেই মনে করা হচ্ছে।


Share