Political Crisis

‘তিন জন মুসলমান সাংসদের অসুবিধা রয়েছে, বাকিরা সবাই বিজেপিতে যাচ্ছি,’ দাবি এনসিপিআই সংসদের, মিলবে মন্ত্রিত্বও

জগদীশের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “বাসুনিয়া কী বলেছেন, তার উত্তর দেব না।” তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া আর এক সাংসদ মথুরাপুরের বাপি হালদার বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।”

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:০২

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে তৃণমূল থেকে ২০ জন সাংসদ গিয়েছিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে। চার মাসের মধ্যেই আবার দলবদল হতে চলেছে। এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। সেই পুজোর আগে বা পরেই সেই যোগদান প্রক্রিয়া শেষ হতে পারেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

কোচবিহারের সাংসদ জগদীশের বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ— আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। তাঁদেরকে বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে বলেও জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেছেন। যদিও জগদীশের দাবি উড়িয়ে সাংসদ আবু তাহেরদের পাল্টা দাবি, তাঁরা তিনজন বিজেপি বা এনডিএ— কোনওটিতেই যাবেন না। জগদীশের বক্তব্য প্রসঙ্গে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “বাসুনিয়া কী বলেছেন, তার উত্তর দেব না।” তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, “আমি এই বিষয়ে বিশেষ কিছু জানি না।”

সোমবার একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ে বলেন, “আমাদের সঙ্গে তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছেন না। তাই আমরা তিন জনকে বাদ দিয়েই ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দেব। আমাদের পরিকল্পনা তৈরি হয়ে আছে। ওই তিন জনকে বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে। তাঁরাও এনডিএকে সমর্থন করবেন। এনডিএর সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু সরাসরি বিজেপিতে তাঁরা যাবেন না।”

আবু তাহের, ইউসুফ পাঠান এবং খলিলুর রহমান কেন সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন না, তার কারণ ব্যাখ্যা করে জগদীশ জানিয়েছেন, ওই তিন সাংসদের এলাকা সংখ্যালঘু প্রধান। তাই কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে তাঁরা এনডিএর সমর্থক থাকবেন। এনডিএর হয়েই কাজ করবেন তাঁরা। বর্তমানে এই ২০ জন সাংসদ এখন এনসিপিআইতে রয়েছেন। তিনি বলেন, “তাই এনসিপিআই-এর ২০ থেকে ১৪ জন গেলেই হবে। তিন ভাগ। ২০-র দুই-তৃতীয়াংশ। সাড়ে ১৩ হলেই হয়। আমাদের সঙ্গে ১৭ জন রয়েছেন। ফলে দলবিরোধী আইনে পড়ব না। হয়তো পুজোর আগে বা পরেই হবে (বিজেপিতে যোগদান)।”

জগদীশের আরও বক্তব্য, তাঁরা তৃণমূল থেকে সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই তিন সংখ্যালঘু সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাননি। তার ফলে ‘একটু সমস্যা’ হয়েছে। তার পর বিজেপি নেতাদের উদ্যোগ নিয়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে কোচবিহারের সাংসদ বলেন, “অমিত শাহের নেতৃত্বে আমরা ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়ে একটু সমস্যা হল। কারণ আমাদের সঙ্গে তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ ছিলেন। তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছিলেন না। তখন আমাদের দিল্লির নেতারা, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বাকি সবাই এনসিপিআইয়ের সঙ্গে আমাদের মার্জার (মিশিয়ে) করিয়ে দেন।”

এনসিপিআই নিয়ে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার বক্তব্য, এনসিপিআই একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। এটা নথিভুক্ত হলেও অস্বীকৃত। তা নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। স্পিকারের কাছেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, “সেই প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো পুজোর আগেই শেষ হয়ে যাবে।”

জগদীশের এমন ঈঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের কটাক্ষ করে বলেন, “আমি জগদীশ বসুনিয়াকে আমার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কী হবে বা না হবে, তার দায়িত্ব দিইনি। জগদীশ বসুনিয়া যা বলেছেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত। তার সঙ্গে আমরা সহমত নই। বিজেপিতে আমরা যাব না। এনডিএতেও যাব না। এটা জলের মতো পরিষ্কার। আমরা তিন সাংসদ বার বার বলেছি, আমরা বিজেপিতে যাব না, এনডিএতে যাব না।”

একই সঙ্গে আবু তাহের বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী যদি সরকারি বৈঠকে ডাকেন, আমরা যাব। তাই বলে বিজেপি বা এনডিএর বৈঠকে যাব না।” প্রসঙ্গত, বিজেপি বা এনডিএতে যোগদান না করার বিষয়ে আগেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর এবং ইউসুফ। সংসদের বাদল অধিবেশন চলার সময় এনডিএর ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকেও গরহাজির ছিলেন এই তিনজন সংখ‍্যালঘু সাংসদ।

রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূলের অত‍্যাচার মানুষ ভোলেনি। যে তিন জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল, তাঁদের দল অনুমোদন করেছিল। তিন জন দলে যোগ দিয়েছিল মানে ৩০ জন দলে যোগ দেবে, তা হবে না।” একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তাঁর সংযোজন, “আর যে বিজেপিতে ওঁরা যোগদান করতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি।”


Share