Ritabrata Banerjee

২১ জুলাইয়ের আগে তৃণমূলে সংঘাত! ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, দলের নাম ও ৪৪০ কোটির তহবিল নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে ঋতব্রত শিবির

দিল্লি যাওয়ার আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের আজকেই জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দেখা করতে হবে। তাই আমরা যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন কেন ডেকেছে তা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়।’’

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৪

২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহে তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিদার কে, তা নিয়ে ঋতব্রতপন্থী ও কালীঘাটপন্থীদের দ্বন্দ্ব পৌঁছে গেল দিল্লিতে। এই বিতর্কের জেরে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদের তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দিল্লির নির্বাচন সদনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকে যোগ দিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর শিবিরের তৃণমূল পরিষদীয় দলের ১০ সদস্য বুধবার বিকেলে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দিল্লি যাওয়ার আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের আজকেই জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দেখা করতে হবে। তাই আমরা যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন কেন ডেকেছে তা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়।’’ নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ঋতব্রতপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে তাঁদের বক্তব্য শোনার সম্ভাবনা রয়েছে।

দমদম বিমানবন্দরে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আসল-নকল জানি না। আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রস। ২২ জুন আমাদের বিশেষ সেশন হয় এবং তার ভিত্তিতে আমরা সিইও-কে চিঠি দিয়েছিলাম এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চেয়েছিলাম। তাঁরা সময় দিয়েছেন। বেলা ১২ টায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আমাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দিয়েছেন। কালেক্টিভ লিডারশিপ হিসাবে আমরা ১০ জনের দল যাচ্ছি।’’ ঋতব্রত ছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, গোলাম রব্বানি-সহ ১০ জন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ‘তৃণমূল’-এর নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের দাবি করেন ঋতব্রত ও তাঁর সহযোগীরা। এরপর ২৩ জুন তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে গিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সংক্রান্ত নথি জমা দেন। ঋতব্রতের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের ঘোষিত কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। সূত্রের খবর, নতুন কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য ও পদাধিকারীর নামের তালিকা এবং ২১ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও-র দফতরে জমা দেওয়ার পাশাপাশি, সেই নথি ইমেলের মাধ্যমে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরেও পাঠানো হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি ঋতব্রত বা তাঁর সহযোগীরা। বৈঠক শেষে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমরা কমিশনের কাছে কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসিনি। কিছু নথি দিয়েছি। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা যায় না।”

সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানো চিঠি এবং দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো ইমেলে ঋতব্রত শিবির নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে। সেই সঙ্গে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলের তহবিল পরিচালনার অধিকারও চাওয়া হয়েছে। যদিও জোড়াফুল প্রতীক দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বলেন, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন ? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’

অন্য দিকে, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন করেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলির সমস্ত লেনদেন স্থগিত রাখার আর্জি জানান। পরে একই দাবিতে পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করে ঋতব্রত শিবির। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা আপাতত তোলা বা লেনদেন করা যাবে না। এরপর ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করে কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে ঋতব্রত, সন্দীপন, অরূপ রায়, জাভেদ খান এবং বিপ্লব মিত্রের বিরুদ্ধে কালীঘাট ও নিউ টাউন থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন।


Share