Rebanta Reddi

রেবন্ত রেড্ডির আমেরিকা সফরে অনুমতি দিল না বিদেশ মন্ত্রক, বাতিল হল তেলেঙ্গানা রাইজিংয়ের কর্মসূচি

সেখান থেকে সফর শেষে তাঁর হায়দরাবাদে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক ছাড়পত্র না মেলায় সেই সফর বাতিল করতে হয়েছে।

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেলেঙ্গানা
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫২

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরে অনুমতি দিল না কেন্দ্রীয় সরকার। সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ নয় বলেই এই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার, ২১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন রেবন্ত রেড্ডি। তাঁর ৩০ আগস্ট আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে সফর শেষে তাঁর হায়দরাবাদে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক ছাড়পত্র না মেলায় সেই সফর বাতিল করতে হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মুখ্যমন্ত্রীদের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীদের বিদেশ সফরের প্রস্তাব তাঁদের পদ এবং সফরের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। রেবন্ত রেড্ডির প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের কর্মসূচি যথাযথ বলে বিবেচিত হয়নি বলেও জানান তিনি। সিএমও সূত্রে খবর, রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বাধীন ‘তেলেঙ্গানা রাইজিং’-এর সরকারি প্রতিনিধিদল যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা সফরের জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নীতি ও প্রোটোকল মেনেই সফরের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে কেন্দ্রের তরফে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় প্রতিনিধিদল আমেরিকা সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

সরকারি প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাজ্যে পৌঁছোনোর পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি আর আমেরিকা যেতে পারছেন না। বস্টনে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ২৩ আগস্ট লন্ডন থেকে হায়দরাবাদে ফিরবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (সিএমও) জানিয়েছে, ‘তেলেঙ্গানা রাইজিং’-এর ভিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ‘বিকশিত ভারত’ উদ্যোগে অবদান রাখার লক্ষ্যেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সফর ‘রাজনৈতিক কারণে বাতিল’ হওয়ায় রেড্ডি হতবাক হয়েছিলেন বলেও সিএমও জানিয়েছে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রেড্ডির দাবি, প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় শিক্ষানীতির বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভারত, তেলেঙ্গানা এবং হায়দরাবাদের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরের শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হত বলে তিনি মনে করেন ।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিশ্বের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর মতে, তেলেঙ্গানা ও হায়দরাবাদকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও দক্ষতার কেন্দ্র হিসেবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমেরিকা সফরের অনুমতি না মিললেও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি নির্ধারিত যুক্তরাজ্য সফর চালিয়ে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতি গঠন এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে রাজনীতি ও নির্বাচনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আমেরিকার সফর বাতিল হলেও সেখানে পরিকল্পিত বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেড্ডি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং অংশীদারিত্ব চুক্তিগুলি চূড়ান্ত করারও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিকে, যুক্তরাজ্যে রেড্ডির নির্ধারিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সফরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এবং লন্ডন বিজনেস স্কুল-সহ একাধিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মতবিনিময়ও করবেন।

রেড্ডি হায়দরাবাদকে একটি আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও ফের জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শহরের শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদের বিকাশের মাধ্যমে হায়দরাবাদকে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি হায়দরাবাদকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাঁর স্বপ্ন, ভারতীয় পড়ুয়াদের যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়। তিনি দেশেই হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, এমআইটি, লন্ডন বিজনেস স্কুল এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে চান।

শহরের শিক্ষাক্ষেত্রের সম্ভাবনার উদাহরণ দিতে গিয়ে রেড্ডি হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুল (এইচপিএস)-এর কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই স্কুলের প্রাক্তনীদের মধ্যে মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। হায়দরাবাদকে বড় কর্পোরেট সংস্থা এবং তাদের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি)-এর অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন রেড্ডি। তাঁর মতে, আইআইটি, আইএসবি, আইআইআইটি এবং নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি শহরের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

রেড্ডি জানান, তেলেঙ্গানা সরকার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলিকে হায়দরাবাদে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শহরকে শুধু প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য হিসেবেও গড়ে তুলতে চায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সাধারণ ভারতীয়দের যাতে বিদেশে না গিয়েও বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসম্পন্ন শিক্ষা, ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট অর্জনের সুযোগ হয়, সেটিই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে দেখা করার এবং তেলেঙ্গানার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে। রেড্ডি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ২০ আগস্ট লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২০ আগস্ট ভোরে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান কংগ্রেস সাংসদ মাল্লু রবি এবং রাজ্য সরকারের প্রটোকল বিষয়ক উপদেষ্টা হরকরা ভেনুগোপাল।

সফর শুরুর আগে, রেড্ডি ১৯ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন। তাঁর যুক্তরাজ্য সফরের অংশ হিসেবে, রেড্ডির ২১শে আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অফ গভর্নমেন্ট পরিদর্শন এবং এমিরেটস স্টেডিয়ামে একটি ইপিএল ফুটবল উপস্থাপনায় যোগ দিয়েছিলেন।

বাতিল হওয়া আমেরিকা সফরের কর্মসূচিতে ২৪শে আগস্ট হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইটি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এরপর ২৫শে আগস্ট নর্থ-ইস্টার্ন ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং বস্টনে ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের সাথে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩০শে আগস্ট হায়দ্রাবাদে ফেরার আগে, রেড্ডির ২৬শে আগস্ট নিউইয়র্কে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেস (ইউএসএ) আয়োজিত একটি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। 


Share