Death

জেল থেকে বেরিয়েই স্ত্রী-সন্তান ও নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকে খুনের অভিযোগ, তল্লাশির মাঝেই মিলল অভিযুক্ত রাজকুমারের দেহ, সামনে এল ভিডিয়ো বার্তা

এ বার সেই পি রাজকুমারেরই মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলার একটি মাঠ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেলেঙ্গানা
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩১

নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলে বন্দি ছিলেন পি রাজকুমার। পরে জামিনে মুক্তি পেয়েই জেলের বাইরে বেরিয়ে ওই নাবালিকা, তাঁর মা এবং দিদিমাকে খুন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর নিজ গ্রামে ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এ বার সেই পি রাজকুমারেরই মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলার একটি মাঠ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা পুলিশের দাবি, এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৬ মে পকসো আইনে রাজকুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। শুক্রবার তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর নিজের গ্রাম শাবাদে ফিরে যান। সেখানে স্ত্রী পার্বতী সরিতা (৩০) এবং তাঁদের চার বছর ও ১৮ মাস বয়সি দুই ছেলের সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগ, সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করেন তিনি।

পুলিশের অভিযোগ, এরপর শাবাদ থেকে প্রায় ছ'কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে যান রাজকুমার। সেখানে মা ও দিদিমার সঙ্গে বসবাস করত নির্যাতিতা কিশোরী। অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে কিশোরীকে এবং পরে তার মা ও দিদিমাকে খুন করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, ছয় জনকে হত্যার পর রাজকুমার নিজের বাবাকে ফোন করে পুরো ঘটনার কথা জানান। এরপর থেকেই তিনি পলাতক।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজকুমারের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তাকে ধরতে ১২টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পাশাপাশি, রাজকুমারের সন্ধানদাতাকে দু'লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছিল। সোমবার দুপুর প্রায় তিনটে নাগাদ রঙ্গরেড্ডি জেলার পেঞ্জারলা গ্রামের বাইরে একটি মাঠের ধারে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের পরনের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় রাজকুমার বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে বিষয়টি তাঁর পরিবারকেও জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, রাজকুমারের পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি বাসের টিকিট এবং নগদ এক হাজার ২৬০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি দেহের পাশ থেকে একটি কীটনাশকের বোতলও মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই কীটনাশক পান করেই রাজকুমার আত্মহত্যা করেছেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তদন্তে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি খতিয়ে দেখে পুলিশ একটি দু'মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো পেয়েছে। পুলিশের দাবি, ভিডিয়োটি ১০ জুলাই রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে রাজকুমার নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই পরিবারের কারণে তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাঁর চাষের জমিও হাতছাড়া হয়েছে। ভিডিয়োর শেষ অংশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন এবং নিজের জীবন শেষ করে দিতে চান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাজকুমার অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলার জন্য তিনি ১৬টি সিমকার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পাশাপাশি, বাজারে তাঁর প্রায় দু'কোটি টাকার ঋণ ছিল বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। সেই ঋণ শোধ করতে নিজের চাষের জমিও বিক্রি করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের অক্টোবর মাসেও কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন রাজকুমার। বর্তমানে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে রাজকুমারের আর্থিক ক্ষতির কোনও যোগ রয়েছে কি না, এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে রাজকুমারের করা দাবিগুলি কতটা সত্য, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।


Share