Rahul Gandhi

ব্রিক্‌স সম্মেলনে খাবারের মেনুতে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার! দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ ভোজি, সমাজমাধ‍্যমে দাবি রাহুল গাঁধীর

লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ ভোজি। সরাসরি ব্রিক্‌সের নৈশভোজের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও, তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেরই পরোক্ষ সমালোচনা বলে মনে করছেন অনেকে।

রাহুল গাঁধীর সমাজমাধ্যমের পোস্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৬

ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের খাবারের মেনুতে শুধুমাত্র নিরামিষ রাখা রাখা হয়েছে। এ বার আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। রবিবার সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হল। লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ ভোজি। সরাসরি ব্রিক্‌সের নৈশভোজের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও, তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেরই পরোক্ষ সমালোচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল সমাজমাধ্যমে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় ‘ছোলে বাটুরের’ একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “উল্লেখ্য যে, ৮০ শতাংশ ভারতীয়ই আমিষ ভোজি। ভারতের আমিষ খাবারগুলি সুস্বাদু, যেমন আমার বোনের ভালো লাগে ছোলে বাটুরেও।” রাহুলের এই পোস্টের পরেই রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজে আমিষ খাবার না রাখা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই আবহে রাহুলের ‘৮০ শতাংশ’ মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে নিজের পোস্টে সরাসরি বিতর্কে না গিয়ে রাহুল নিরামিষ খাবারেরও প্রশংসা করেছেন। বোন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রার পছন্দের ছোলে বাটুরেকে ‘সুস্বাদু’ বলে উল্লেখ করে আমিষ-নিরামিষের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে খাবারের স্বাদের কথাই সামনে এনেছেন তিনি।

রাহুল প্রসঙ্গ উত্থাপন না-করলেও কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া ব্রিক্‌সের মেনু নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। তিনি বলেন, “ভারতীয়রা কী খাবেন বা না-খাবেন, তা তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিজেপির অভ্যাস। এ বার তারা (বিজেপি) আরও একধাপ এগিয়ে তাদের পছন্দ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।”

কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা দাবি করেন, ব্রিক্‌স সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে খাবারের মেনু নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য, “আমি ভাবতেই পারছি না যে, ব্রিক্‌স সম্মেলনে আসা নেতাদের খাবারের মেনু নিয়ে কংগ্রেস রাজনীতি করছে। ভারতে আগত রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিরামিষ খাবার খেয়েছেন।” তাঁর আবার দাবি, এই খাবারের মেনুতে ভারতের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য যেমন প্রতিফলিত হয়েছে। নিরামিষ খাবার স্বাদ এবং পুষ্টিগুণেও সেরা।

প্রসঙ্গত, দিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ব্রিক্‌স নৈশভোজের মেনুতে পনির, মিলেট থেকে শুরু করে জিলিপির মতো একাধিক খাবার ছিল। তবে মেনুতে কোনও আমিষ খাবার না থাকায় তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কংগ্রেসের তরফে এই নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। যদিও জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা (এনএফএইচএস)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেশে নিরামিষ ও আমিষভোজীর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। এর আগের রিপোর্টে (২০১৯-২১) অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছিল, দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি পুরুষদের ৮৩.৪ শতাংশ এবং মহিলাদের ৭০.৬ শতাংশ কোনও না কোনও সময়ে মাছ বা মাংস খেয়েছেন।


Share