Extradition of Gangster

ইথিওপিয়া থেকে গ্যাংস্টার গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদিকে দেশে ফেরাল পঞ্জাব পুলিশ, চার বছর আগে গির্জায় হামলার মূলচক্রী বলে দাবি

গুরবিন্দর পঞ্জাবের পাকিস্তান লাগোয়া জেলা তরণ তারণের টুট গ্রামের বাসিন্দা। ডনি বাল-প্রভ দাসুওয়াল গ্যাংয়ের অন্যতম প্রধান মাথা গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদি। এই ১০ মাস ধরে চলা আন্তর্জাতিক তল্লাশি অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

গ্যাংস্টার গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:০৪

বড়সড় সাফল্য পেল পঞ্জাব পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স। পলাতক গ্যাংস্টার গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদিকে ইথিওপিয়া থেকে দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। পঞ্জাব পুলিশের ‘অপারেশন শহিদ’-এর অধীনে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ১০ মাস ধরে গুরবিন্দরকে খুঁজছিল পুলিশ। এই অভিযানে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ওভারসিজ ফিউজিটিভ ট্র্যাকিং অ্যান্ড এক্সট্রাডিশন সেল এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সহযোগিতা করেছে।

এই অভিযানের কথা ঘোষণা করে পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে বসেই পঞ্জাবে একাধিক পরিকল্পিত খুন, তোলাবাজির উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল গ্যাংস্টার গুরবিন্দর। তার সম্পর্কে তথ্য দিয়ে গ্রেফতারিতে সাহায্য করার জন্য পঞ্জাব সরকার ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

ডিজি গৌরব যাদব বলেন, “বড়সড় সাফল্য পেল পঞ্জাবের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স। এই অভিযানে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ওভারসিজ ফিউজিটিভ ট্র্যাকিং অ্যান্ড এক্সট্রাডিশন সেল এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতা করেছে। ডনি বাল-প্রভ দাসুওয়াল গ্যাংয়ের অন্যতম প্রধান মাথা গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদিকে ইথিওপিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়েছে। ১০ মাস ধরে চলা আন্তর্জাতিক তল্লাশি অভিযানের পর ‘অপারেশন শহিদ’-এর অধীনে এই সাফল্য এসেছে।”এই আন্তর্জাতিক অভিযানে সহযোগিতার জন্য বিদেশ মন্ত্রক এবং অন্যান্য সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পঞ্জাব পুলিশের ডিজি গৌরব যাদব।

গুরবিন্দর পঞ্জাবের পাকিস্তান লাগোয়া জেলা তরণ তারণের টুট গ্রামের বাসিন্দা। ডনি বাল-প্রভ দাসুওয়াল গ্যাংয়ের অন্যতম প্রধান মাথা গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদি। এই ১০ মাস ধরে চলা আন্তর্জাতিক তল্লাশি অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এজিটিএফের এসপি বিক্রম ব্রারের নেতৃত্বাধীন একটি দল তাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রের খবর, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার একাধিক দেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। আফ্রিকার কোনও দেশ থেকে এই প্রথম কোনও পলাতক অপরাধীকে দেশে ফেরাতে সক্ষম হল পঞ্জাব পুলিশ।

গত ২০২২ সালের ৩১ অগস্ট তরণ তারণ জেলার ঠক্করপুরা গ্রামের একটি গির্জায় হামলার তদন্তে প্রথমবার গুরবিন্দরের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনায় মুখোশ পরা চারজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গির্জার নিরাপত্তারক্ষীকে পণবন্দি করে। এরপর যিশুখ্রিস্ট এবং মাদার মেরির মূর্তি ভাঙচুর করে তারা। পাশাপাশি, গির্জার যাজকের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। গত ২০২৪ সালের জুন মাসে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা জস্বিন্দর সিংহ ওরফে মুন্সিকে গ্রেফতার করে অমৃতসর গ্রামীণ পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুন্সি গির্জায় হামলার ঘটনায় আফ্রিদি এবং তার আরও দুই সহযোগীর নাম উল্লেখ করে।

এ ছাড়াও, ২০২১ সালে তরণ তারণ সদর পট্টি থানায় চুরি এবং বাড়িতে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি এফআইআরেও গুরবিন্দরের নাম ছিল। ওই এফআইআরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮০ এবং ৪৫৭ নম্বর ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার ভিত্তিতে ২০২৪ সালে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ওই এফআইআর খারিজ করে দেয়।


Share