American Tarrif

ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার বড় বাণিজ্যিক পদক্ষেপ! ১২.৫% অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব, চাপে পড়তে পারে একাধিক রফতানি শিল্প

দুই দেশের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০২:৩১

ভারতের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর সেকশন ৩০১ তদন্তের ফল প্রকাশ করে ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের উপর এই শুল্ক চাপানোর সুপারিশ করেছে। অভিযোগ, এই দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে করা হয়েছে, যখন নয়াদিল্লিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। দুই দেশের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এখনও পর্যন্ত ভারতের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়নি। এটি আপাতত একটি প্রস্তাব মাত্র। জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সেকশন ৩০ হল আমেরিকার ট্রেড আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিধান। এর মাধ্যমে ইউএসটিআর বিদেশি সরকারের নীতি বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে পারে। কোনও দেশের নীতি মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকর বলে মনে হলে অতিরিক্ত শুল্ক বা অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের।

ভারত সম্পর্কে ইউএসটিআরের অভিযোগ, দেশটি জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। আমেরিকার প্রশাসনের দাবি, এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং মার্কিন বাণিজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, পোশাক, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো কম্পোনেন্ট এবং শিল্প যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও সমস্যার মুখে পড়তে পারে। আমেরিকায় রফতানির খরচ বৃদ্ধি পেলে অর্ডার ও মুনাফার উপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাসায়নিক ও উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ দেখা দিতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে খাতভিত্তিক প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়, তবুও রপ্তানিনির্ভর সংস্থাগুলির উপর বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

শেয়ার বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে টেক্সটাইল, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস এবং অটো কম্পোনেন্ট খাতের শেয়ারগুলিতে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা দেখা যেতে পারে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ প্রস্তাবটি এখনও কার্যকর হয়নি এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা এখনও চলমান।


Share