Narendra Modi

যুদ্ধের আবহে বড় সিদ্ধান্ত মোদীর! অর্ধেক করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়, জ্বালানি সাশ্রয়ে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি সফরে তুলনামূলক ছোট কনভয় দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর কনভয়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১২:০২

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই বড়সড় মিতব্যয়ী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি স্তরে জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে একাধিক পদক্ষেপেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি-কে কনভয় ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু গাড়ির সংখ্যা কমানোই নয়, প্রধানমন্ত্রীর বহরে আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এর জন্য নতুন গাড়ি কেনা হবে না বলেই জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় না করেই ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

যদিও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’-এর সমস্ত বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি সফরে তুলনামূলক ছোট কনভয় দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

শুধু প্রধানমন্ত্রীর দফতর নয়, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রককেও জ্বালানি সাশ্রয়ের রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে। কোন মন্ত্রক কীভাবে জ্বালানির ব্যবহার কমাবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের মধ্যে মেট্রো ব্যবহার, কারপুলিং, অপ্রয়োজনীয় সফর কমানো এবং ভার্চুয়াল বৈঠক বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থাও বাড়ানো হতে পারে বলে খবর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের সরকারি গাড়ির বহর ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একই ধরনের পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ মানুষকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার আগে সরকারকেই উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, গণপরিবহণ ব্যবহার, কারপুলিং বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা এবং এক বছরের জন্য সোনা কেনা কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। এর পরেই কেন্দ্র সরকার সোনার আমদানি শুল্কও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।


Share