Bihar By Election

প্রশান্ত কিশোরের মাস্টারস্ট্রোক! বিজেপিকে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে হারিয়ে বাঁকিপুরে ইতিহাস গড়লেন পিকে

বিহারের পটনার সংলগ্ন বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে তিনি এগিয়ে আছেন।

প্রশান্ত কিশোর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিহার
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৪

সরাসরি ভোটের ময়দানে প্রথমবার নেমেই জয়ের স্বাদ পেলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বড় জয় পেলেন জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে পরাজিত করে তিনি জয় ছিনিয়ে নেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন জন সুরাজ পার্টি প্রথমবারের মতো বিহার বিধানসভায় নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করল।

বিহারের পটনার সংলগ্ন বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে তিনি এগিয়ে আছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি, আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরজেডি।

বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ সালে পটনা পশ্চিম কেন্দ্রের বড় অংশ এবং তৎকালীন পটনা মধ্য কেন্দ্রের একাংশ নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়। সেই বছর থেকেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন টানা চারবার এই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। ২০২৫ সালের নির্বাচনে তিনি ৬২ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তবে সম্প্রতি তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বাঁকিপুর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি নিজে প্রার্থী হননি। সেই নির্বাচনে দলটি কোনও আসন জিততে পারেনি। তবে বাঁকিপুর উপনির্বাচনে নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করে পিকে রাজনৈতিক মহলে চমক দেন। বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে কেন তিনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, সেই বিজেপি দুর্গেই প্রশান্ত কিশোর আপাতত এগিয়ে রয়েছেন।

যদি শেষ পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোর জয়ী হন, তবে বিজেপি বাঁকিপুরে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের মুখ দেখবে। উল্লেখ্য, বর্তমান বাঁকিপুর বিধানসভার একটি বড় অংশ আগে পটনা পশ্চিম কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই কেন্দ্র থেকে ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন নিতিনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্‌হা।

বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রথমে নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপি অভিষেক কুমারকে প্রার্থী করেছিল। তবে তাঁকে টিকিট দেওয়ার পরই দলের অন্দরে পরিবারবাদের অভিযোগ তুলে বিহার বিজেপির একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে, নিতিন নিজের ঘনিষ্ঠকেই প্রার্থী করেছেন। বিতর্ক বাড়তেই শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিষেক কুমারের পরিবর্তে নীরজ কুমার সিন্‌হাকে প্রার্থী করা হয়।

একই দিনে উপনির্বাচন হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুর কেন্দ্রেও। দতিয়ায় আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করায় বিজেপির ভিতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অনুগামীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখান। ভোটগণনার শুরুতে পিছিয়ে থাকলেও সপ্তম রাউন্ডের পর থেকে এগিয়ে যান কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ। সর্বশেষ হিসাবে তিনি তিন হাজার ২৯৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

অন্য দিকে, গুজরাতের মঞ্জলপুরে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রভাই পটেল। গণনা যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে তাঁর ব্যবধান। ১৬ রাউন্ড শেষে কংগ্রেস প্রার্থী ভিখাভাই রাবারির তুলনায় ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। 


Share