Murder Case

লিভ-ইন সঙ্গিনীকে খুনের অভিযোগ, ‘ঘটনার পুনর্নির্মাণে’ অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা পুলিশের

আবার অনেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থনও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযুক্তকে এ ভাবে প্রকাশ্যে মারধর করা আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েই জোরদার হয়েছে বিতর্ক।

অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করা হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গুজরাত
  • শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৯

লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে গুজরাতের ভবনগরের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। শনিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, যে বাসস্ট্যান্ডের সামনে তরুণীকে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি, সেখানেই অভিযুক্তকে কয়েক জন পুলিশকর্মী প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বির্তক শুরু হয়েছে। ভিডিয়ো দেখে কেউ কেউ পুলিশের এই আচরণের সঙ্গে তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান বা ইরানের মতো দেশের শাস্তির পদ্ধতির তুলনা করেছেন। আবার অনেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থনও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযুক্তকে এ ভাবে প্রকাশ্যে মারধর করা আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েই জোরদার হয়েছে বিতর্ক।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়জল ওরফে খাটকি লখানি। কাজলবেন বরাইয়া নামে এক তরুণীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে লখানি ও কাজলবেন লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর ভবনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে কাজলবেনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন তরুণীর মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ লখানিকে গ্রেফতার করে।

শনিবার নীলমবাগ থানার পুলিশ ভবনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঘটনাস্থলে লখানিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর লাঠি দিয়ে মারধর করতে করতে তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি এখন কলকাতা ডট কম।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর কাজলবেন এবং তাঁর বন্ধু রবির সঙ্গে লখানির বচসা হয়। রবির সঙ্গে কাজলবেনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে লখানি সন্দেহ করেছিলেন। যদিও পুলিশের কাছে রবি দাবি করেছেন, মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁদের মধ্যে বচসা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বচসার পর কাজলবেনকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন লখানি। তাঁর বুকে ও পেটে লাথি এবং ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি পাথর দিয়ে তাঁর মাথাতেও আঘাত করা হয়েছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় কাজলবেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর দিন তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, লখানির বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি ও মারধরের মতো অভিযোগে মামলা রয়েছে।


Share