CJP Protest

ভিড়ে আটকে পড়ার পরেই একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে, কোনও আন্দোলনকারী জখম হননি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানাল বিহার সরকার

গত ২২ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় মোট ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপরাধমূলক ইতিহাস না থাকা এমন ২২২ জন ছাত্র আন্দোলনকারীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৭৫ জন নাবালককে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৬

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল বিহারে। সেই আন্দোলন চলাকালীন একে-৪৭ বন্দুক দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। মঙ্গলবার বিহার সরকার সুপ্রিম কোর্টকে এমনটাই জানিয়েছে। তবে গুলি শূন্যে চালানো হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছে। ঘটনায় কেউ জখম হয়নি বলেই জানানো হয়েছে। পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও বিহার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে। 

গত ২৫ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিহারের সিওয়ান। অভিযোগ, বিহার পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ‍্য করে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিহার পুলিশ তা মেনে নিয়েছে। বিহার পুলিশ সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, জেপি চকের কাছে কনস্টেবল অভিষেক কুমার ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েন। এরপর তিনি তাঁর একে-৪৭ থেকে চার রাউন্ড গুলি চালান। তবে সবকটি গুলিই শূন্যনে চালানো হয়েছিল। ঘটনায় কেউ জখম হননি। যে আন্দোলনকারীরা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছিল, তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। 

অন্য দিকে, হাতি চকের কাছে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর নীলেশকুমার সিংহ তাঁর ৯ মিমি পিস্তল থেকে দু’রাউন্ড গুলি চালান। সেই ঘটনাতেও কেউ আহত হননি। হলফনামায় বিহার পুলিশ জানিয়েছে, একে-৪৭ মূলত প্লাটুন স্তরের অস্ত্র। এই অস্ত্র বিশেষ অভিযানে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাধারণ দায়িত্বে এটি ব্যবহারের কথা নয়। তাই ঘটনার পর কনস্টেবল অভিষেক কুমারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

বিহার সরকারের দাবি, আন্দোলন সামলাতে পুলিশ ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে। আন্দোলনকারীদের ক্ষতি করার জন্য কোনও ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের মধ্যে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়েছিল। তারাই সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও আধিকারিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় জেলাভিত্তিক আন্দোলন ও হিংসার তথ্যও দিয়েছে বিহার সরকার। রাজ্যের দাবি, ২২ জুলাই পাটনার গান্ধী ময়দানে কমিউনিস্টদের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র ডাকা লোকভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। এই ঘটনায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে মোট ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়। ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৪ জুলাই জেহানাবাদ জেলাশাসকের বাসভবনে হামলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় ১৮ জন সরকারি আধিকারিক জখম হন বলে জানিয়েছে রাজ্য। ছাপড়া, পটনা, সীতামঢ়ি, ভাগলপুর, ঔরঙ্গাবাদ, কাটিহার ও কিশানগঞ্জে হিংসার ঘটনার তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, গোটা বিহার জুড়ে হিংসাত্মক ঘটনায় ১৫৭ জন পুলিশকর্মী এবং আরও সাত জন সরকারি কর্মী জখম হন।

বিহার আরও জানিয়েছে, গত ২২ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় মোট ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপরাধমূলক ইতিহাস না থাকা এমন ২২২ জন ছাত্র আন্দোলনকারীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৭৫ জন নাবালককে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিহার এ-ও জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অবস্থান বিবেচনা করে অধিকাংশ মামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


Share