NEET Paper Leak

সিজেপির আন্দোলনে বিদেশ থেকে টাকা আসছে, এনআইএ তদন্ত চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের, শুক্রবার শুনানির সম্ভাবনা

এ ছাড়াও, কমিউনিস্ট লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং, অতিশী, ডিম্পল যাদব, ধর্মেন্দ্র যাদব এবং চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি, তাঁরা আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অশান্তি ছড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়েছেন।

দিল্লির ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা দায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪৬

মেডিকেল প্রবেশিকা (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কান্ড নিয়ে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই অভিযানকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লি। অভিযোগ, ওই কার্যকলাপ সংঘটিত করতে বিদেশ থেকে টাকা আন্দোলনকারীদের কাছে ঢুকেছে। ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তদন্তের দাবি জানিয়ে এ বার দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে।

প্রশ্নফাঁস কান্ডে গত ২০ জুলাই কররোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা ‘সংসদ চলো’ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল সংসদ মার্গ। শুধু তা-ই নয় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ এর জেরে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। মামলাকারী সতীশকুমার আগরওয়ালের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ওই দিন মিছিলে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। মিছিল থেকে পুলিশের একাধিক গাড়ি সমেত সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশকর্মীদের ওপরেও হামলা হয়েছে।

মামলাকারীর অভিযোগ, এই তথাকথিত আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে। আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন‍্য বিদেশ থেকে তাঁদের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়াও, ‘তথাকথিত’ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিক্ষোভে অংশগ্রহণের বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও তাঁর বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাদের তরফ থেকে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে।

মামলাকারীর আরও অভিযোগ, এই আন্দোলন প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন নয়। বরং দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আন্দোলন সংগঠিত করা হচ্ছে। এটা বিদেশি ও ভারতবিরোধী শক্তির মদতে পরিচালিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তাই ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দেওয়া হোক বলে দাবি করে মামলাকারী।

বুধবার অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশকুমার আগরওয়াল দিল্লি হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর আইনজীবী বরুণকুমার সিংহ দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজাস করিয়ার বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামীকাল, শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এ ছাড়াও, কমিউনিস্ট লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং, অতিশী, ডিম্পল যাদব, ধর্মেন্দ্র যাদব এবং চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি, তাঁরা আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অশান্তি ছড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়েছেন।


Share