Hardeep Singh Puri

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও এখনই স্বস্তি নেই! পেট্রল-ডিজেলের দাম কমানোর সম্ভাবনায় কার্যত ইতি টানলেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বৃহস্পতিবার জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি বিক্রিতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির মোট ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদ্বীপ সিংহ পুরী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৫

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির পর  দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। অশোধিত তেলের দাম কমে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল-পিছু ৭০-৭২ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৬৮-৬৯ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হলেও, বৃহস্পতিবার সেই সম্ভাবনায় কার্যত জল ঢেলেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আপাতত জ্বালানির দামে কোনও ছাড়ের পরিকল্পনা নেই।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বৃহস্পতিবার জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি বিক্রিতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির মোট ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যদিও ১৭ জুনই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং তার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, বর্তমানে দেশে যে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি বিক্রি হচ্ছে, তার জন্য ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রায় দু'মাস আগেই কেনা হয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যপতনের প্রভাব এখনও পুরোপুরি খুচরো বিক্রিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ সংক্রান্ত প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ তেলের দাম কমই থাকে, তাহলে এটি একটি যুক্তিগ্রাহ্য প্রশ্ন হবে।’’

হরদীপ বলেন, “আজ আমরা যে অশোধিত তেল ব্যবহার করছি, তা আমরা দু’মাস আগে কিনেছিলাম। তখন যে দাম ছিল সেই দামে। যদি এটি (আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমা) আগামী ২-৩ মাস ধরে অব্যাহত থাকে, আমরা ভেবে দেখব। কিন্তু বিষয়টি অনুমান-নির্ভর।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় উন্নত দেশগুলিতে পেট্রলের দাম গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সেই বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। অথচ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতে পেট্রলের দাম বেড়েছে মাত্র ৫.৫৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “গত চার মাসে (২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন শেষ পর্যন্ত) আমাদের এক লক্ষ সাত হাজারটি খুচরা আউটলেটের কোনওটি বন্ধ হয়নি বা কোনও ঘাটতি হয়নি, আমরা ভাল ভাবে, দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছি।” তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি তার পুরো ভার গ্রাহকদের উপর না চাপিয়ে দিয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেরা বহন করেছিল।


Share