Parliament

বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদ অচল, তবু ১৯ বিল পাস! মাত্র ৩৬ মিনিটে সাত বিল, প্রশ্ন উঠল ‘তড়িঘড়ি’ নিয়ে

মাত্র ৩৬ মিনিটের মধ্যে সংসদে সাতটি বিল পাস হয়েছে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক বিল পাস করানো হলেও সেগুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪৩

চলতি বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে বার বার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তবে অধিবেশনের এখনও দু’দিন বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই এনডিএ সরকার ১৯টি বিল পাস করিয়ে ফেলেছে। ফলে বিক্ষোভের কারণে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত হলেও বিল পাসের সংখ্যায় তার প্রভাব বিশেষ পড়েনি বলেই পরিসংখ্যান বলছে। পাস হওয়া বিলগুলির মধ্যে নজর কেড়েছে একটি বিশেষ ঘটনা। মাত্র ৩৬ মিনিটের মধ্যে সংসদে সাতটি বিল পাস হয়েছে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক বিল পাস করানো হলেও সেগুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

সাতটি বিল পাস করতে গড়ে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লেগেছে। কয়েকটি বিলের ক্ষেত্রে সাংসদেরা সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ায় সেগুলি পাস করাতে তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে এত কম সময়ে বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

সংসদের অধিবেশনে কার্যকরী সময়ের পরিসংখ্যানও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করছে। প্রতিদিন ছ’ঘণ্টা করে অধিবেশন চললে ১৫ দিনে মোট ৯০ ঘণ্টা সংসদ চলার কথা। কিন্তু চলতি বাদল অধিবেশনে এখনও পর্যন্ত লোকসভা বসেছে মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। রাজ্যসভায় অধিবেশন চলেছে ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট। যদিও রাজ্যসভায় প্রতিটি বিল পাস করতে গড়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

লোকসভায় বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান এবং রাজ্যসভায় বার বার কক্ষত্যাগের মধ্যেই একের পর এক বিল পাস হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল। লোকসভায় বিলটি নিয়ে ১১ ঘণ্টা আলোচনা হয়। রাজ্যসভায় আলোচনার সময় ছিল সাত ঘণ্টা ১৪ মিনিট।

তবে চলতি বাদল অধিবেশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, একেবারেই প্রশ্নোত্তর পর্ব হতে পারেনি। শুধু এই অধিবেশনেই নয়, অষ্টাদশ লোকসভার একাধিক অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় নষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের তিন শতাংশ সময় নষ্ট হয়েছিল। শীতকালীন অধিবেশনে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশে। ২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনে নষ্ট হয় ৭৭ শতাংশ সময়। আর চলতি বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব একেবারেই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বার সংসদে সাংসদেরা প্রশ্ন করার সুযোগই পাননি। বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


Share