Paper Leak

সরকারি চাকরি পেয়েই ‘ব্রেকআপ’, রাগে পুলিশের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার প্রেমিকের, মহারাষ্ট্রে বাতিল গোটা পরীক্ষা, গ্রেফতার প্রেমিকা

প্রশ্নপত্রের দাম পাঁচ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। এমন কত জনকে এই টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছে। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৫

প্রেমিকা সরকারি চাকরি পেল। সেই পরীক্ষাতেই প্রেমিক উর্ত্তীণ হতে পারলেন না। প্রেমে ইতি টানলেন প্রেমিকা। পুলিশের চাকরির পরীক্ষা হোক বা ডাক্তারি প্রবেশিকা, দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। প্রেম ভেঙে যাওয়ার দরুণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর বেরিয়ে এল এই প্রথম। মহারাষ্ট্রে ঘটনাটি ঘটেছে। এক যুগলের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা জানতে পারল পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে মহারাষ্ট্রে ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছিল। পাবলিক সার্ভিস কমিশন এই পরীক্ষা নিয়েছিল। লিখিত পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটে যায়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ইন্টারভিউ নেওয়ার পর্বও শেষ হয়। তার পরে মেধাতালিকা পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামনে আসতেই গোটা পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের পাবলিক সার্ভিস কমিশন। যুবগের কীর্তি ফাঁস হতে আবার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। প্রথমে গৌরব পাটিল ওরফে লোকেশ নামে এক যুবক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে একটি অভিযোগ জানান। তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থায় কর্মরত। গত ২২ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। গত ২৭ জুলাই মহারাষ্ট্রের পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরীক্ষার্থীরা।

অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। লোকেশ ওরফে গৌরব পাটিল পুলিশকে জানান, পরীক্ষার আগেই গত ২২ মার্চ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। তদন্তের নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযোগকারী গৌরব আদতে ভুক্তভোগী নন। তিনি নিজেই এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছেগৌরবকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গৌরবের ভাইও ওই পরীক্ষায় বসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে কেন গৌরব এই কাজ করতে গেলেন, কী উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র বিক্রি করে টাকা আদায় কী ছিল মূল উদ্দেশ্য? মহারাষ্ট্র পুলিশের বক্তব্য, এর মধ্যে কোনটাই উদ্দেশ্য ছিল না। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ঋতুজা পাটিল নামের এক তরুণীও ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগের পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে গৌরবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হোয়াটসঅ্যাপ মারফত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ঋতুজার হাতে পরীক্ষার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। ঋতুজা আবার প্রশ্নপত্রটি তাঁর প্রেমিক গৌরবকে সরবরাহ করেছিলেন।

ঋতুজা ওই পরীক্ষায় আবার সপ্তম স্থান অধিকার করেন। ঋতুজার এমন ‘তথাকথিত প্রতিভা’র খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ‘ব্রান্ড’ হয়ে ওঠেন এলাকায়। তাঁর ছবি সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো হয়। এত লাইমলাইট, প্রচারের আলোয় আসার পরেই গৌরবের সঙ্গে প্রেমে ইতি টানেন ঋতুজা। গৌরবের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ভেঙে দেন। তরুণীর যুক্তি ছিল, বাড়ির লোকজন বিয়েতে রাজি নন। পুলিশের দাবি, প্রেম ভাঙার রাগ থেকেই গৌরব কমিশনের দ্বারস্থ হন। ইমেলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ জানান।

তবে ঋতুজাকে প্রশ্নপত্র কে দিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পেরেছে, কমিশনের আধিকারিক এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে। সরকারি চাকরির ‘এডুকেশন মাফিয়া’ চক্র এর নেপথ্যে রয়েছ। বেসরকারি কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র হাতবদল হয়। পুলিশ অভিজিৎ লেন্ডবে, গোপাল মারাঠে এবং বিশ্বেশ্বর নাকাটে নামে তিন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আধিকারিক গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা ‘কৌটিল্য কোচিং সেন্টারে’-কে প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছে। ওই কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর প্রবীণ পাটিলকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। এই প্রবীণই ঋতুজার বাবা অমৃত পাটিলকে প্রশ্নপত্রটি সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে ঋতুজা তাঁর প্রেমিক গৌরবের সঙ্গে ভাগ করে নেন। হয়েছেন ঋতুজা, তাঁর বাবা অমৃতও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

প্রশ্নপত্রের দাম পাঁচ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। এমন কত জনকে এই টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছে। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share