Pakistani Agent Arrested

ভারতে চলছিল পাকিস্তানের চর-বৃত্তি! উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার ছয়, ৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত মিলি পারিশ্রমিক

জম্মু-কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় সৌরচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। দিল্লি-জম্মু রেলওয়ে করিডরেও এ রকম বেশ কিছু ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানে ছবি পৌঁছোচ্ছিল। সেনাদের গতিবিধি রেকর্ড হচ্ছিল ওই ক্যামেরায়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০২:৩৪

একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিরাট চরবৃত্তি চক্রের হদিস পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মূলত অল্পবয়সিদের টাকার লোভ দেখিয়ে সংবেদনশীল এলাকার ছবি, ভিডিয়ো এবং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আর গোটাটাই পরিচালনা হচ্ছিল সীমান্তের ওপার, পাকিস্তান থেকে। এমনই দাবি করেছে পুলিশ। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাক হ্যান্ডলারদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় রাজ্যের ভবাপুরে বেশ কিছু তরুণ-তরুণী রেলস্টেশন, সেনাঘাঁটি, ধর্মীয় স্থান, জনবহুল এলাকার ছবি তুলছে। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয়রা বেশ কিছু সংবেদনশীল জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগাতে দেখেছেন। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়েরাই প্রথমে পুলিশে খবর দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর পুলিশ প্রথমে এক তরুণী-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ধৃতদের ফোন ঘাঁটতেই স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীরা। সাধারণ কোনও ঘটনা নয়, এর সঙ্গে যে চরবৃত্তির যোগ রয়েছে, সেই তথ্য হাতে পেতেই রাজ্য পুলিশ, গোয়েন্দারা তৎপর হন।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, ধৃতদের ফোন থেকে বেশ কিছু ছবি, তথ্য এবং কথোপকথন উদ্ধার হয়েছে, যেগুলি থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যেও এই চরবৃত্তির নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে। পাকিস্তানে যাঁদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ধৃতদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকত, তাঁরা হলেন সুহেল মালিক, নওশাদ আলি, সমীর ওরফে শুটার। তাঁরা সকলেই পাকিস্তান থেকে এই চরবৃত্তির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, তথ্য পাচারের জন্য ৫-২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছিল চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত তরুণ-তরুণীদের। শুধু তথ্য পাচারই নয়, এই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে‌‌ যাঁরা প্রযুক্তি এবং সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ, তাঁদের মাধ্যমে মগজধোলাই এবং চরবৃত্তিতে নিয়োগের কাজ চলছিল। 

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভবাপুর থেকে, তাঁদের মধ্যে চার জন জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচার করেন। আর এই ঘটনা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, জম্মু-কাশ্মীরে বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় সৌরচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। দিল্লি-জম্মু রেলওয়ে করিডরেও এ রকম বেশ কিছু ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানে ছবি পৌঁছোচ্ছিল। সেনাদের গতিবিধি রেকর্ড হচ্ছিল ওই ক্যামেরায়।

২০ মার্চ পাঁচ নাবালক-সহ ন’জনকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ধৃতেরা উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং নেপালে চরবৃত্তির নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ধৃত নওশাদ আলির সূত্র ধরে মথুরা থেকে এক নাবালিকাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। টোটো চালানোর আড়ালে চরবৃত্তি করত সে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত তদন্তে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।


Share