SCO Meeting

পহেলগাঁও হামলা, অপারেশন সিঁদুরের পরও বরফ গলানোর বার্তা? দিল্লির এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের

সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর। তবে ভারতের আমন্ত্রণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৯

দিল্লিতে আসন্ন সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত। শুধু ইসলামাবাদ নয়, সংগঠনের বাকি সদস্য দেশগুলিকেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লিতে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর। তবে ভারতের আমন্ত্রণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের বক্তব্য, এসসিও-র সমস্ত সদস্য দেশের প্রতিনিধিদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। ফলে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েনের নিরিখে বিষয়টিকে দেখছে না দিল্লি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় আয়োজিত এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিল পাকিস্তান।

অন্য দিকে, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার প্রত্যাঘাতে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দিল্লি। ভারতের বক্তব্য, জঙ্গিদমনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই বিশ্বাসী তারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য অন্যান্য দেশকেও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা একাধিকবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কিরঘিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম এসসিও সম্মেলনেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব হয়েছিলেন মোদী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা। বিশকেকের সম্মেলন থেকে মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, যে দেশগুলি সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের নীতির অঙ্গ করে তুলেছে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, সন্ত্রাসবাদ কখনও কোনও দেশের কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।

কাশ্মীর প্রসঙ্গেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চাপানউতর অব্যাহত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার বার কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলেছে ইসলামাবাদ। অন্য দিকে, দিল্লির অবস্থান, কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। সেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি উত্থাপনকে সমর্থন করে না ভারত।

উল্লেখ্য, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন সত্ত্বেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে সেই সফরে পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। এ বার দিল্লিতে এসসিও-র অনুষ্ঠানে পাকিস্তান আদৌ কোনও প্রতিনিধি পাঠায় কি না, এখন সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।


Share