Jaan Suraj Party

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি, এক হাজারের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করল প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির পরামর্শদাতা সংস্থা

‘জন সুরাজ পার্টি’র পেশাদার সংস্থার নাম ‘জন সুরাজ প্রফেশনাল টিম কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ বা জেএসপিটি। জানা গিয়েছে, বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের ছ’মাস আগে এই সংস্থাটি তৈরি করা হয়। গত নির্বাচনে এই সংস্থাটি জন সুরাজ পার্টির হয়ে সমীক্ষার কাজ করেছিল।

জন সুরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পটনা
  • শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫০

বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। এর পরেই তাঁররাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা সংস্থা প্রায় এক হাজারের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। সংস্থার নামজন সুরাজ প্রফেশনাল টিম কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড বা জেএসপিটি। সূত্রের খবর, গত বছরেরনভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে।

গত বছরের বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এনডিএ জোটের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেইন্ডি জোট। ইন্ডি জোটের সঙ্গে না গিয়ে একা লড়াই করার কথা ঘোষণা করেছিলেন জন সুরাজ পার্টিরনেতা প্রশান্ত কিশোর। সেই নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ জন সুরাজের প্রার্থীরা শুধুমাত্র হেরেছেন তা নয়, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রনকৌশল ঠিক করার জন্য পেশাদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করেথাকে। তাঁরা মূলত, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী-সহ যাঁদের এলাকা ভিত্তিকজনপ্রিয়তা রয়েছে, তাঁদের ওপর সমীক্ষা করেন। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে রাজনীতিতে তাঁদের নিয়েএলে কতটা তাঁরা সফল হতে পারবেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দেন। বিগতনির্বাচনে ওই রাজনৈতিক দল কোন বুথে কতটা শক্তিশালী বা বুথভিত্তিক কী কাজ করলে আরও শক্তিবাড়ানো যায় তার সমীক্ষা করে রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দেয়। এ ছাড়াও, কিছু সংস্থা ক্ষমতাসীনদলের হয়েও কাজ করে থাকেন। সরকারে থাকা রাজনৈতিক দলের আরও কী কাজ করলে হারিয়েযাওয়া জনভিত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে তা নিয়ে পরামর্শ দেয়। মানুষ কী ভাবছে তা নিয়েও সমীক্ষাকরে রাজনৈতিক দলকে তার ভিত্তিতে তাঁরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তেমনই ‘জন সুরাজ পার্টি’র পেশাদার সংস্থার নাম ‘জন সুরাজ প্রফেশনাল টিম কনসালটেন্সি প্রাইভেটলিমিটেড’ বা জেএসপিটি। জানা গিয়েছে, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ছ’মাস আগে এই সংস্থাটিতৈরি করা হয়। গত নির্বাচনে এই সংস্থাটি জন সুরাজ পার্টির হয়ে সমীক্ষার কাজ করেছিল। সমীক্ষারকাজের জন্য ঘটা করে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় কর্মী ছাঁটাই।সূত্রের খবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৩০০ কর্মীকে সেই সংস্থা থেকে ছাঁটাইকরা হয়েছে। ছাঁটাই করার পরে তাঁদের বকেয়া সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবেএকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে অনেকেই ডিসেম্বর মাসেরবেতনে পাননি। তাঁদের পাঁচ মাসের জন্য যে নিয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়েও ওই সংস্থাটি কর্মীদেরকেধোঁয়াশায় রেখেছিল বলে কেউ কেউ দাবি করেছেন।

শিক্ষা, রোজগারের প্রশ্নকে সামনে রেখে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে পা রাখেন প্রশান্ত কিশোর ওতাঁর দল ‘জন সুরাজ পার্টি’। প্রচারপর্বে বেশ আশা জাগালেও, নির্বাচনের ফলাফল দলীয় নেতৃত্বকেহতাশ করেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রেই ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রার্থীদের জামানতই বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জনসুরাজ পার্টি ২৪৩টির মধ্যে ২৩৮টি আসনে লড়াই করেছিল। একটিতেও জয়ী হয়নি।  তাদের প্রাপ্তভোটের হার ৩.৩৪ শতাংশ ছিল। সব মিলিয়ে ১৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ভোট পায়েছে। ৬১টি আসনে জনসুরাজ পার্টি নোটা-র চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকে প্রশান্তকিশোরকে জনসমক্ষে আর সেভাবে দেখাও যায়নি।

কর্মী ছাঁটাই করা নিয়ে জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি।তবে ‘জন সুরাজ পার্টি’র মিডিয়া ইন-চার্জ ওবায়দুর রহমান বলেন, “২৪৩টি কেন্দ্রে কাজ করার জন্যআমাদের পেশাদার সংস্থা অনেককেই নিয়োগ করেছিল। শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্যই নিয়োগ করাহয়েছিল তাঁদের। নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর ওঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” জন সুরাজ পার্টির একনেতা জানান, এই কর্মী ছাঁটাইয়ের সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই।

বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে আইপ‍্যাক কাজ করছে। নির্বাচনকেসামনে রেখে আইপ‍্যাকও কর্মী নিয়োগ করেছে। এক সময় এই ‘আইপ‍্যাক’ সংস্থার প্রধান ছিলেনপ্রশান্ত কিশোর। বর্তমানে প্রতীক জৈন এই সংস্থার কর্ণধার। আর দেড় মাসের মধ্যেই রাজ‍্যে ঘোষণাহতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ। নির্বাচনের পরে এই সংস্থাটির কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হবেনা তো! তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে রাজনৈতিক মহল।


Share