Lok Sabha

অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে বিরোধীদের অনড় অবস্থান, শেষ দিনেও হল না আলোচনা! বন্দেমাতরমে মুলতুবি লোকসভা

এত দিন সংসদ ভবনে নিজের দফতরে থাকলেও বাদল অধিবেশনে এই প্রথম অমিত শাহ লোকসভার অধিবেশনে যোগ দিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরাও।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১১

সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে লোকসভায় হাজির হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভে পড়ুয়াদের উপর পুলিশকে ছর্‌রা গুলি ও লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে বিরোধীরা শাহের বিবৃতি দাবি করে আসছিল। এত দিন সংসদ ভবনে নিজের দফতরে থাকলেও বাদল অধিবেশনে এই প্রথম অমিত শাহ লোকসভার অধিবেশনে যোগ দিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরাও।

বৃহস্পতিবার বন্দেমাতরম্‌ গেয়ে লোকসভার অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর মতোই জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্‌’-কে সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই প্রথম লোকসভার অধিবেশন এই গান দিয়ে শুরু হল। সরকারি অনুষ্ঠানেও জাতীয় সঙ্গীতের আগে বন্দে মাতরম্‌ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবক গাওয়া শেষ হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করে দেন। ফলে শেষ দিনে শাহ লোকসভায় উপস্থিত থাকলেও দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশের কথিত ‘দমনপীড়ন’ নিয়ে কোনও আলোচনা বা বিতর্ক হল না।

বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগেও সংসদ চত্বরে মকর দ্বারের সামনে শাসক ও বিরোধী সাংসদদের মধ্যে চলে স্লোগান-যুদ্ধ। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বিক্ষোভে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে নেতৃত্ব দেন। তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-সহ বিরোধী জোটের একাধিক দলও বিক্ষোভে যোগ দেয়। পাল্টা ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে লাঠিচার্জের প্রতিবাদ জানিয়ে রাহুল গাঁধী এবং বিরোধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এনডিএ-র সাংসদেরা স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়াদের উপর পুলিশকে লাঠি ও পেলেট গান চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করে আসছেন রাহুল গাঁধী-সহ বিরোধী নেতারা। অন্য দিকে, শাহের বক্তব্য, শুধুমাত্র একটি বিবৃতির মাধ্যমে ওই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি নিয়ে সংসদে সামগ্রিক আলোচনা প্রয়োজন।

ছাত্র সমস্যা নিয়ে অন্তত সংসদের শেষ দু’দিনে আলোচনা করা যায়, সেই উদ্যোগে বুধবার অমিত শাহ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন। তিনি বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার পথ খোঁজার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করেন। তবে অধিবেশন শেষ হওয়ার ঠিক মুখে শাহের এই উদ্যোগ কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।

পুরো বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে। শাহের বিবৃতির দাবিতে বিরোধী দলগুলি অনড় অবস্থান নিয়েছিল। এই আবহে বুধবার অমিত শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”


Share