Supreme Court

ভোট দিলেন না লক্ষ লক্ষ মানুষ! ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র ১৩৬, সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ

আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন, অথচ মাত্র ১৩৬টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরামর্শ দেন, এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৬

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের বহু বাসিন্দা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, কারণ তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। এই সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুন্যালে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু সেই কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু ও নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়টি তোলা হয়। আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন, অথচ মাত্র ১৩৬টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরামর্শ দেন, এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে।

এদিন প্রথম দফার ভোট নিয়েও আদালতে আলোচনা হয়। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বলেন, মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।

এদিকে, মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এনআইএ তদন্ত শুরু করলেও এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি। এই বিষয়ে অতিরিক্ত সময় চেয়ে এনআইএর পক্ষ থেকে আবেদন করেন আইনজীবী সূর্যপ্রকাশ ভি রাজু, যা মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চার্জশিট পেশের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি আপিল ট্রাইবুন্যাল গঠন করেছিল, যেখানে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সেই ট্রাইবুন্যালের কাজের গতি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।


Share