Middle East Crisis

ইরান যুদ্ধের আঁচে লাগামছাড়া তেলের দাম, অগস্টে আরও বাড়ল পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি, উৎসবের মরসুমে পকেটে কোপের আশঙ্কা

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে আরও বেড়েছে পাইকারি মূল্যসূচক। ফলে উৎসবের মরসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে কেন্দ্রও।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৪৬

ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে লাগামছাড়া খনিজ তেলের দাম। ভারতের বাজারেও তারই আঁচ পড়ছে। বাড়ছে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে আরও বেড়েছে পাইকারি মূল্যসূচক। ফলে উৎসবের মরসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে কেন্দ্রও।

সোমবার, কেন্দ্র ১৪ সেপ্টেম্বর অগস্টের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অগস্টে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯.৯২ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। পর পর কয়েক মাস ধরে এই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতিবিদদের একাংশের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেড়েছে। জুলাইয়ে খাদ্য সূচকের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। অগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.০৫ শতাংশে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হারও বেড়েছে। অন্য দিকে, উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত। জুলাইয়ে এই ক্ষেত্রে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ, অগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৮.৩৭ শতাংশ। খনিজ তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি খাদ্য ও উৎপাদিত পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অগস্টে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পাইকারি মূল্যসূচক পৌঁছেছে ২২.৯৩ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক বিবৃতি দিয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, খনিজ তেল, খাদ্যদ্রব্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের আমদানি খরচ বেড়েছে। সেই ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হারে।

পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও বাস্তবায়ন মন্ত্রক খুচরো মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করে। চলতি বছরের জুলাইয়ে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অগস্টে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির জেরে খুচরো বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে চাল, ডাল, তেল, নুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি আর্থিক বছর ২০২৬-’২৭-এর শুরু থেকেই ভারতের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী। এর পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দামবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে বাণিজ্যিক পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ইরান যুদ্ধের জেরে সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে। ওই পথ ধরেই এত দিন উপসাগরীয় আরব দেশগুলি থেকে ভারত খনিজ তেল আমদানি করত। ফলে বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়েছে। সেই বাড়তি খরচের চাপই ধীরে ধীরে দেশের পাইকারি এবং খুচরো বাজারে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারত এখনও আমদানিনির্ভর। দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী সারের দামও। এর জেরে দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এর পাশাপাশি, জুলাইয়ে প্রকাশিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের বিবৃতিতে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এল নিনোর প্রভাবে ফসল উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি আর্থিক বছর, অর্থাৎ ২০২৬-’২৭ সালে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় পাঁচ শতাংশে পৌঁছোতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আরবিআই।


Share