NIA

পাক হ‍্যান্ডলারদের ভারতীয় সিমকার্ডের বদলে টাকা! পিংলার দুই যুবকের মামলার তদন্তভার নিল এনআইএ

কিন্তু সিম কার্ড যে হেতু মুরশালিনের কাছে থাকত, তাই ওটিপিও তার কাছেই আসত। মুরশালিন তা জানিয়ে দিত আইএসআই এজেন্টদের। মুরশালিন ওটিপি পিছু তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত বলে জানতে পেরেছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পিংলা
  • শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৬

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে গত মে মাসে দুই যুবককে রাজ‍্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করেছিল। সেই মামলার তদন্তভার নিল এনআইএ। কীভাবে এই চক্র কাজ করত, জঙ্গি কার্যকলাপের টাকা কীভাবে তাদের হাতে পৌঁছে গেল, তা জানতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। রাজ‍্যে স্থায়ী এনআইএ থানা তৈরি হওয়ার পরে এটাই তাঁদের প্রথম মামলা।

গত মে মাসে পিংলা থানার অন্তর্গত ক্ষীরাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ মুরসালিন ও সুরচকের বাসিন্দা গৌতম খাঁড়া নামে দুই যুবককে রাজ‍্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দু’জনের কাছ থেকে গোয়েন্দারা একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রচুর ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ সিম কার্ড উদ্ধার করে।

জানা যায়, গৌতমের মোবাইল সংযোগের ব্যবসা রয়েছে। সেই সূত্রে তার কাছে অনেকেই মোবাইলের সিম কার্ড কিনতে আসতেন। গৌতম সেই সুযোগে  গ্রাহকদের পরিচয়পত্র রেখে দিত। তা দিয়ে পরে নতুন সিম কার্ড চালু করত। গৌতম ওই সব সিমের নম্বর মুরশালিনের কাছে পাঠাত। মুরশালিন সেগুলি পাঠিয়ে দিত পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্টদের। ওই এজেন্টরা সেই সব নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। কিন্তু সিম কার্ড যে হেতু মুরশালিনের কাছে থাকত, তাই ওটিপিও তার কাছেই আসত। মুরশালিন তা জানিয়ে দিত আইএসআই এজেন্টদের। মুরশালিন ওটিপি পিছু তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত বলে জানতে পেরেছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

ওই দু’জনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মুরশালিন একাধিক বার তাইল‍্যান্ডে গিয়েছিল। কম্বোডিয়াতেও যাতায়াত ছিল। তার সেই খরচ বহন করেছিল পাকিস্তানের এজেন্টরা। সে পাকিস্তানেও গিয়েছিল কি না, তা জানতে তার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে এই চক্রটি পিংলায় সক্রিয় ছিল। ওই সময়ে প্রায় চারশোটি সিমকার্ড চালু করেছিল বলে অনুমান করছে গোয়েন্দারা।

গৌতম ও মুরশালিন বেশ কয়েক বছর এলাকায় ঘুরে ঘুরে সিম কার্ড বিক্রি করতেন। মূলত সংখ্যালঘু এলাকাতেই সিমকার্ড বিক্রি করা হত। গৌতমের এক পড়শি বলেছিল, “গৌতম দরিদ্র পরিবারের ছেলে। স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। বছর কয়েক আগে একটি ছোট্ট দোকান খুলেছিল। তাতেই সিম বিক্রি করত। অনেককে যেমন নথি দিয়ে সিম নিত, আবার নথি ছাড়াও সিম পাওয়া যেত।”

পিংলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারেও একই সিম কার্ড চক্রের হদিস পায় এসটিএফ। এই সিম কার্ডের ওটিপির বদলে টাকার অঙ্কটা কতটা, এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে কি না, কী রুটে টাকা পাচার হত তা তদন্ত করতে চায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।


Share