Forced Conversion

কলমা পড়ায় ‘না’, ধর্ম জিজ্ঞেস করে পরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ! মুম্বইয়ের ঘটনা

সাধারণ মানুষকে গুজবে বিশ্বাস না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেছে, এ রকম করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ধৃতের নাম জায়ের জুবের আনসারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৪৬

দুই হিন্দু ব‍্যক্তিকে ‘কলমা’ পড়তে বলেছিল যুবক। কিন্তু যুবকের কথা তাঁরা শোনেননি। প্রতিশোধ নিতে যুবক পরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। দু’জনেই গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মুম্বইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর অনুযায়ী মুম্বাইয়ের নয়া নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানকার ওকহার্ট হাসপাতালের পিছনে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজ চলছিল। রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত সেন নামে দুই ব্যক্তি সেখানকার নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ তাঁদের কাছে এক ব‍্যক্তি আসেন। তাঁদেরকে ইসলামিক ‘কলমা’ পড়তে বলেন। কিন্তু তা পড়তে তাঁরা নাকোচ করে দেন। এর পরেই ওই যুবক আচমকা ধারালো অস্ত্র বের করে পরপর কোপ মারতে থাকে।

দু’জনেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রাজকুমার মিশ্র কোনও মতে হাসপাতালে পৌঁছোন। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগকারীর ‍বয়ান অনুযায়ী, সুব্রত সেন নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁকে পাশের এটি ভবনের থাকা ব‍্যক্তি উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। পরে সুব্রতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। ৯০ মিনিটের মধ্যেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম জায়েব জুবের আনসারি (৩১)। আনসারিকে নয়া নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার জায়েব জুবের আনসারিকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। ধৃতকে জায়েব জুবের আনসারিকে আগামী ৪মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

এই হামলার তদন্ত পুলিশ এবং মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন শাখা (এটিএস) একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আনসারি কয়েক বছর আমেরিকায় ছিল। তার পরিবারের কিছু সদস্য এখনও আমেরিকাতেই থাকে। তবে সেখানে কাজ না পেয়ে আনসারি ভারতে ফিরে আসে। 

আনসারির মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসও। তা পরীক্ষা করে এটি একক ঘটনা নাকি বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, আনসারির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নোটে ‘আইএসআইএস’, ‘লোন উলফ’, ‘জিহাদ’ এবং ‘গাজা’ শব্দগুলি পাওয়া গেছে।

এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে গুজবে বিশ্বাস না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেছে, এ রকম করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Share