Terrorism

র‍্যাপিডো চালকের ছদ্মবেশে ‘জৈয়শ-ই-মহম্মদ’ জঙ্গি! পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে মুম্বইয়ে গ্রেফতার যুবক

মুম্বইয়ে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে ৩৩ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্র ATS। ধৃতের বিরুদ্ধে জৈয়শ-ই-মহম্মদের প্রচার ও উস্কানিমূলক পোস্টের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪০

পেশায় বাইক ট্যাক্সি চালক, পাশাপাশি ইত্র বিক্রির ব্যবসা। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালেই পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন জৈয়শ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের সন্দেহে মহারাষ্ট্রের মুম্বই থেকে ৩৩ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা (ATS)। ধৃতের নাম মহম্মদ হাসান আবু সরমদ আখতার। তাঁর বিরুদ্ধে সমাজমাধ‍্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট এবং ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ অক্টোবর মুম্বইয়ের মাহিম এলাকায় মেট্রো স্টেশনের কাছে অভিযান চালিয়ে আখতারকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র ATS-এর কালাচৌকি ইউনিট। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। বিহারের বাসিন্দা আখতার প্রায় এক দশক ধরে মুম্বইয়ে থাকছিল বলে জানা গিয়েছে। মাহিমে ইত্র বিক্রির পাশাপাশি তিনি র‍্যাপিডো বাইক ট্যাক্সি চালাতেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিল আখতার। তার মোবাইল ফোনে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন জৈয়শ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের বক্তব্যের অডিয়ো ক্লিপও পাওয়া গিয়েছে বলে ATS দাবি করেছে। অভিযোগ, একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে ওই অডিয়ো ছড়ানো হয়েছিল। পাকিস্তান-সমর্থিত বলে চিহ্নিত একটি উগ্রপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

গত ২১ অক্টোবর পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আখতারের সঙ্গে এক পাকিস্তানি আইএসআই আধিকারিকের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়। তার ডিজিটাল কার্যকলাপ খতিয়ে দেখে অন্য কেউ এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(১) ধারায় গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কী পরিকল্পনা করেছিল তা জানার চেষ্টা তদন্তকারীরা করছেন।


Share