Jamat-Ul-Mujahideen

বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মিলছিল না খোঁজ, বিহার থেকে গ্রেফতার দক্ষিণ দিনাজপুরের মুজিবর

বিহার থেকে মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করল এনআইএ। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ। অসমের বিশেষ আদালতে চলছে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৪

দু’বার তল্লাশি চালিয়ে মেলেনি কোনও খোঁজ। অবশেষে বিহার থেকে মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুজিবরকে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। গত মাসে এই মামলায় দেশজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চার জন ছিল। মুজিবরকে গ্রেফতার করায় বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে এই মামলায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল এনআইএ।

বিএসসি পাশ করার পর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ২৯ বছরের মুজিবর রহমান। মুজিবর দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার মুন্দেহার গ্রামের বাসিন্দা। গত ন’মাস ধরে মুজিবর বাড়িতেই ছিল না। পরিবারও তার কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না। এই মামলায় গত মাসে মিজানুরের বাড়িতে গিয়েছিল। তার খোঁজ না মেলায় খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তদন্তকারী আধিকারিকদের। তবে কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল। যদিও পরিবারের দাবি, মিজানুরকে তারাই বিহার থেকে ধরে এনে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়েছে।

উল্লেখ্য, আল কায়দা উপপমাহাদেশ (একিউআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জামাতুল মুজাহিদিন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে অসমে ‘জামাতুল মুজাহিদিনের’ ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘ইমাম মাহমুদুর কাফিলা (আইএমকে)’ নামে সংগঠনের একাধিক সদস্য গ্রেফতার হন অসম পুলিশের হাতে। তদন্তে উঠে আসে, ‘জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের’ এই ছায়া সংগঠনটি অসম ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরাতেও জাল ছড়িয়েছে। ওই মামলাতেই উঠে আসে শাদ রাডির নাম। বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসে মুর্শিদাবাদে আত্মীয়দের সাহায্যে ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন। এ দেশের ভোটার তালিকাতেও নাম তুলিয়ে নিয়েছিলেন শাদ।

এই মামলায় গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে ইতিমধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রের খবর, এই জঙ্গিযোগের তদন্তে ধৃতদের জেরা করে এ রাজ্যে আরও বেশ কিছু স্লিপার সেলের হদিস পায় এনআইএ। সেই স্লিপার সেলের খোঁজেই গত ২৯ সেপ্টেম্বর অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলামের মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালায় এনআইএ।

এনআইএ সূত্রের খবর, মুজিবর রহমান বিহার থেকে ধরে এনে পশ্চিমবঙ্গে এনআইয়ের দফতরে আত্মসমর্পণ করেছে। যে হেতু মামলাটি গুয়াহাটির তাই তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে সেখানেই নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিশেষ আদালতে ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে এনআইএ।


Share