Narendra Modi

এসসিও-র মঞ্চে শাহবাজের সামনেই মোদীর কড়া বার্তা, ‘সন্ত্রাসবাদ কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না’

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম এসসিও সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম দ্বিচারিতার জায়গা নেই।

(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৬

বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রশ্নে ফের কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম এসসিও সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম দ্বিচারিতার জায়গা নেই। মোদীর এই বার্তার সময় দর্শকাসনে অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন।

ভারত বরাবরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে এসেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সেগুলি ধ্বংস করার দাবি করেছিল। এই আবহেই এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন। মোদী বলেন, “যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে, তাদের একটিই বার্তা দেওয়া উচিত। তা হল, সন্ত্রাসবাদ কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসবাদের কাঠামোকে আমাদের ভেঙে ফেলতেই হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একসুরে আমাদের বলতে হবে, দ্বিচারিতার কোনও স্থান নেই।”

পশ্চিম এশিয়া এবং ইউক্রেনে যুদ্ধের আবহে প্রধানমন্ত্রী ফের শান্তির বার্তাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে, সব সংঘাত এবং যুদ্ধ পারস্পরিক কথোপকথন এবং কূটনীতির মাধ্যমে শেষ হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলির মীমাংসা হয় না।” পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বিশ্বের প্রায় সব দেশই কোনও না কোনও ভাবে তার ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানালেন। তাঁর কথায়, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট পুরো বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করেছে। ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অন্তর্ভুক্ত ভারতের মতো দেশগুলিকেই এই সঙ্কটের সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোদী সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান নিয়েও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বলেন, মাদক পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, তা নতুন প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুতর ঝুঁকি।

এসসিও সম্মেলনে মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাশিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকত মিরজিয়োয়েভ এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমোন।


Share