Fake Drugs

বেআইনি ওষুধের কারবারে মহারাষ্ট্রে বড়সড় অভিযান, ৮৮০ সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ! বাজেয়াপ্ত ১১ কোটি টাকার ওষুধ-প্রসাধনী

এরপর ১৪০টি কারখানা এবং ৭৪০টি দোকানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৬৭৭টি দোকান ও কারখানার লাইসেন্স সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩টি প্রতিষ্ঠান বা দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

তুকারাম মুন্ডে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মহারাষ্ট্র
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৮

বেআইনি ওষুধ ও প্রসাধনী মজুতের অভিযোগে মহারাষ্ট্রের ৮৮০টি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ওষুধ-প্রসাধনীর দোকানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। জুন থেকে অগস্ট এই তিন মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা মূল্যের ওষুধ ও প্রসাধনী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, ওই তিন মাসে ওষুধ কারখানা ও ওষুধ-প্রসাধনীর দোকান মিলিয়ে মোট দু'হাজার ৯০২টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ৬০৭টি অভিযান হয় ওষুধ তৈরির কারখানায় এবং দু'হাজার ২৯৫টি অভিযান চালানো হয় ওষুধ ও প্রসাধনীর দোকানে। অভিযানে বেশ কয়েকটি কারখানা ও দোকান থেকে বেআইনি ওষুধ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। এরপর ১৪০টি কারখানা এবং ৭৪০টি দোকানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৬৭৭টি দোকান ও কারখানার লাইসেন্স সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩টি প্রতিষ্ঠান বা দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, পুরো রাজ্যজুড়ে মুন্ধের নেতৃত্বে এফডিএ-র বিশেষ দল মোট ১০৪টি ‘সার্চ অ্যান্ড সিজার’ অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ১১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা মূল্যের ওষুধ ও প্রসাধনী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেআইনি ভাবে ওষুধ ও প্রসাধনী মজুতের অভিযোগে ২০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২১ জনকে।

তদন্তে নেমে এফডিএ-র আধিকারিকরা বেশ কয়েকটি কারখানা থেকে অননুমোদিত ও বেআইনি ওষুধ উদ্ধার করেন। পাশাপাশি, ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় রেকর্ডও ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী, রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি ছাড়াই কারখানা থেকে ওষুধ বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু কারখানা নয়, আধিকারীকেরা একাধিক ওষুধের দোকানেও অভিযান চালান। সেখানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঘুমের ওষুধ-সহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ সামনে আসে। পাশাপাশি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ নিয়ম মেনে নষ্ট না করা এবং ইনসুলিন ও ভ্যাকসিন নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ না করার মতো অনিয়মও ধরা পড়েছে।

মুন্ধে জানিয়েছেন, নাগরিকদের হাতে নিরাপদ ও গুণমানসম্পন্ন ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এফডিএ-র প্রধান অগ্রাধিকার। ওষুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করতে পরিদর্শন প্রক্রিয়া আরও জোরদার ও দ্রুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও মুন্ধে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছেন। একাধিক নামী রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছিল নষ্ট দুধ, পনির-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁর লাইসেন্সও বাতিল করা হয়।


Share