Narendra Modi

ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো সরানোর জন‍্য ক্ষমা চাইলেন মার্ক জুকেরবার্গ, কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠক

মেটার বক্তব্য, তাঁরা পরিচালনাগত ত্রুটি লক্ষ‍্য করেছেন। এ ছাড়াও, শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্য সমাজমাধ‍্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জন‍্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

মার্ক জুকেরবার্গ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১০:০০

ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিয়ো সাময়িক ভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন‍্য ক্ষমা চাইলেন মেটার কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গ। ভিডিয়ো সরিয়ে নেওয়ার দেওয়ার পরে বিতর্কের মুখে পড়তে হয় মেটাকে। এ বার তা নিয়ে ক্ষমা চাইলেন মার্ক।

মেটার বক্তব্য, তাঁরা পরিচালনাগত ত্রুটি লক্ষ‍্য করেছেন। এ ছাড়াও, শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্য সমাজমাধ‍্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জন‍্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মেটার সিইও স্বীকার করেছেন যে, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক এবং ডিপফেক, বিশেষ করে ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়া রুখতে সংস্থার প্ল্যাটফর্মে পরিচালনাগত কিছু ত্রুটি ছিল। মার্ক জ়ুকেরবার্গ জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কনটেন্ট আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে জন্য মেটা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে মেটার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের বৈঠকে সমাজমাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়বস্তুর প্রচার নিয়ে কেন্দ্র আপত্তি জানায়। সরকারি পক্ষের দাবি, বিভিন্ন ইস্যুতে মেটাকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়, সমাজমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মেটার দায়িত্ব। শিশু যৌন নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তুর বিজ্ঞাপন থেকে কোনওভাবেই আয় করা যাবে না এবং এ ধরনের বিষয়কে ঘিরে ভবিষ্যতে কোনও আইনি সুরক্ষার দাবিও গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে সূত্রের খবর, ‘কন্টেন্ট মডারেশন’ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোনও ভিডিও সরিয়ে ফেলার বিষয়টি বৈঠকে ওঠেনি।

মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হবে। নতুন নীতি বা বৈশিষ্ট্য চালুর আগে ভারতীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মেটার আরও এক দফা বৈঠক হতে পারে।

কিছু দিন আগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের আবহে দেশের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিয়ো বার্তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে সেটি সাময়িকভাবে মুছে যায়। ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে মেটা জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ভুলবশত ভিডিয়োটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় প্রকাশ করা হয় বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে মেটার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের দাবি, ফেসবুকে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না-নিলে সংস্থার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, মেটার সিইও মার্ক জ়ুকেরবার্গের কাছেও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। তা না-হলে আইনি পদক্ষেপের পথেও হাঁটতে পারে কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে থাকা ‘সেফ হারবার’ বিধান অনুযায়ী, মেটার মতো মধ্যস্থতাকারী (ইন্টারমিডিয়ারি) প্ল্যাটফর্মগুলি সাধারণভাবে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা তৃতীয় পক্ষের কনটেন্টের জন্য দায়ী থাকে না। কারণ, প্রতিদিন কোটি কোটি পোস্টের বিষয়বস্তু রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা কার্যত অসম্ভব। তবে আদালত বা অনুমোদিত সরকারি সংস্থার নির্দেশে কোনও কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হলে, সেই কনটেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট সমাজমাধ্যম সংস্থাকে সাধারণত দায়ী করা হয় না।


Share