Special Intensive Rivision

আইনি যুদ্ধ নামলেন মমতা, দিল্লিতে বৈঠকের আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উপেক্ষা করেই আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের কাজকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন আট হাজার ১০০ জন মাইক্রো অবর্জাভার নিয়োগ করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১২

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল-এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে। রবিবার ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের মামলার এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই সাক্ষাৎকারের আগেই মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বের পরিবেশ সৃষ্টি হল।

আগামী বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর করা সুপ্রিম কোর্টের মামলার শুনানি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলাটির শুনানি হতে পারে। যদিও, তৃণমূলের তরফে আগেই রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, ডেরেক ও ব্রায়েন এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার তাদের দায়ের করা মামলার শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা নিবিড় সসংশোধনের নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীককে ছ'টি চিঠি পাঠিয়েছে। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী আবার তাঁকে চিঠি পাঠান। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সেই চিঠিতে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, দিল্লিতে সাক্ষাতের আগে চিঠি পাঠানো এবং আদালতে মামলা দায়ের, দু’দিক থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের উপর মমতা চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উপেক্ষা করেই আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের কাজকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন আট হাজার ১০০ জন মাইক্রো অবর্জাভার নিয়োগ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই মাইক্রো-অবজার্ভারদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। তাঁরা কোনও ভাবেই এই ধরনের সংবেদনশীল ও আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য যোগ্য নন। তা সত্ত্বেও, একতরফা ভাবে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তিনি পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পাঠানো চিঠিতে আরোও লিখেছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ কিংবা ১৯৬০ কোনও বিধানেই মাইক্রো-অবর্জাভারদের এমন ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কথা বলা নেই। আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ, দাবি-আপত্তির শুনানি, নথি যাচাই এবং অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইআরও এবং এইআরও-দের হাতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেখানে মাইক্রো-অবর্জাভারদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আইনসঙ্গত নয়।


Share