Encounter

মধ্যপ্রদেশে পরপর এনকাউন্টার! পুলিশের গুলিতে জখম তিন অভিযুক্ত, দেবাসে পুলিশকর্মীর মৃত্যুর পরেই উত্তেজনা

দেবাসে পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীর পালানোর চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে জখম দু’জন। অন্যদিকে ভোপালে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস রাকেশ অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তও পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন।

পুলিশের সাথে সংঘর্ষ অভিযুক্তদের
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৬

মধ্যপ্রদেশে পরপর এনকাউন্টারের ঘটনা। মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের দেবাসের দুটি পৃথক এলাকায় পুলিশের গুলিতে জখম হলেন দুই অভিযুক্ত। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজত থেকে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত কর্মীদের রিভলভার ছিনিয়ে নেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তাঁরা পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন। তাতেই দু’জনের পায়ে গুলি লাগে। এর আগে দেবাসেই ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল এক পুলিশ আধিকারিকের। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেফতারের পরই এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার ভোরে। গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে, অবৈধভাবে ট্রাকে করে মদ পাচার করা হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতে এসএইচও দিলীপ পুরীর নেতৃত্বে ইনদওর-বেতুল জাতীয় সড়কে পুলিশ নাকা চেকিং শুরু করে। তল্লাশির সময় ১৮০০ লিটারেরও বেশি মদ-সহ একটি ট্রাক আটক করেন দিলীপ। এরপর চালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তখনই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ট্রাক নিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডিভাইডারে ট্রাকটি উঠে যায়। পিছনের চাকার নীচে দিলীপ পিষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই পুলিশ আধিকারিকের।

জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ট্রাকচালক গজেন্দ্র ওরফে আক্কু রাওয়াত পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার আলিরাজপুর জেলা থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দেবাসে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান গজেন্দ্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। তাতে তাঁর ডান পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে দেবাস জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইনদওরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ট্রাকে গজেন্দ্রর সঙ্গে থাকা সহকারী ধীরজকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। দেবাস সিটি পুলিশের এসপি সুমিত অগ্রবাল জানিয়েছেন, অন্য একটি পুলিশ দল ধীরজকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাঙ্ক নোট প্রেস থানা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজত থেকে ধীরজ পালানোর চেষ্টা করেন। এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোরও চেষ্টা করেন তিনি। এরপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তাঁর ডান পায়ে লাগে। বর্তমানে দেবাস জেলা হাসপাতালে ধীরজ চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, এনকাউন্টারের ঘটনা সামনে আসে। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক রাকেশ অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বরুণ কুমারকে উত্তরপ্রদেশের আগরা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে ভোপালে নিয়ে আসার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। গুলিতে পায়ে আঘাত পান বরুণ। রাস্তায় পড়ে গেলে তাঁকে পুলিশ ফের আটক করে।

এক পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলাকালীন একই দিনে পরপর এই এনকাউন্টারের ঘটনাগুলি ঘিরে মধ্যপ্রদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


Share