Cockroach Janata Party

দিল্লির পর এ বার কলকাতা! ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল ঘিরে তৎপর লালবাজার, অনুমতি চেয়ে ইমেল, নিরাপত্তায় কড়া নজর পুলিশের

সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার কলকাতাতেও একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

ককরোচ জনতা পার্টি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৪:০২

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনকে ঘিরে সরগরম দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর। সংগঠনের দাবি, আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জেরেই এ বার দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার কলকাতাতেও একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক প্রথম গত ১৯ তারিখ কলকাতায় 'ককরোচে'র কর্মসূচি করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠান। যদিও তা নাকচ করে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার ফের একটি ইমেল করেন। যেখানে আগামী ২৪ তারিখ কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চেয়ে ওই ইমেল পাঠানো হয়। ককরোচের সদস্য বলে দাবি করা এক ব্যক্তির পরপর দুটি ইমেল পাওয়ার পরই তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশ। ইমেলগুলিতে 'সিজেপি' বা 'ককরোচে'র নাম উল্লেখ থাকলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদৌ ওই সংগঠনের সদস্য বা তার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, আগামী ২৭ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টিকে মিছিল করার জন‍্য বলা হয়েছে। সম্ভাব্য মিছিলের কথা মাথায় রেখেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে। তবে বর্তমানে ধর্মতলা চত্বর, ভিক্টোরিয়া, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশ, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে জারি রয়েছে ১৬৩ নং ধারা। সেকারণে যেকোনও জায়গায় পাঁচ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেকারণে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিটে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে সম্ভাব্য রুট হিসেবে বলা হয়েছে হিন্দ সিনেমা থেকে এস এন ব্যার্নার্জি রোড হয়ে রানি রাসমনি পর্যন্ত মিছিল করা যেতে পারে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি। ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি, ম্যাসেজের উত্তর দেননি। এই মিছিলের ফলে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হতে পারে। সূত্রেরর খবর, এই কর্মসূচির সঙ্গে কয়েক জন এসএফআই-এর নেতারাও যুক্ত রয়েছেন।

ককরোচ পার্টির দাবি, কলকাতার ছাত্র-যুব সমাজের সকলকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষা দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের এই মিছিলে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন দেদীপ্য। কলকাতার ছাত্র-যুব সমাজের সকলকেই এই মিছিলে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি ককরোচ পার্টির। তবে শিক্ষা দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের এই মিছিল থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেছেন দেদীপ্য।

গত কয়েক দিনে মুম্বই ও চেন্নাই-সহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে পথে নামেন বহু মানুষ। মুম্বইয়ে শিবাজি পার্ক, চৈত্যভূমি, চেম্বুর এবং শিবসেনা ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত দেখা যায়। যদিও মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মসূচির জন্য আগাম কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, চেন্নাইয়ের টি নগর এলাকাতেও একই ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূলত বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা অংশ নেন।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিজেপির ডাকা ‘সংসদ অভিযান’-কে ঘিরে সোমবার দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ায়। ছাত্র-যুবদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন, লোককল্যাণ মার্গের সামনে ধর্নায় বসেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। আটক করার সময় রাহুলকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় ধস্তাধস্তি হয় এবং তাঁর নাক থেকে রক্তপাত হতে দেখা যায়।

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল জানান, বিরোধীদের তিনটি দাবি থেকে তাঁরা সরে আসছেন না। নিট-কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের উপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডা বলেন, ‘‘সংসদে আলোচনার জন্য সরকার রাজি। কিন্তু এ নিয়ে রাজনীতি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’’

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে ধর্না এবং সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিন উত্তাল থাকল সংসদের বাদল অধিবেশন। হইচই ও বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি করতে হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম। অন্য দিকে, বুধবার অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন সমাজসৈনিক ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।


Share